ই-পাসপোর্ট এর সম্পূর্ণ নিয়মাবলী

“এনআইডি যেমন পাসপোর্ট তেমন।”

১ম ধাপঃ- আবেদন

❖ আবেদন পাসপোর্ট অফিসে জমাদান ও ফিঙ্গারের জন্য ডকুমেন্টঃ-

লাল চিহ্নিত ডকুমেন্টগুলো অবশ্যই লাগবে

  • ছবি ১ কপি (পাসপোর্ট সাইজ)।
  • আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র।
  • আবেদনকারীর অনলাইন জন্ম সনদ (বাংলা ও ইংরেজি) — বয়স ২০ বছরের নিচে হলে।
  • পিতার জাতীয় পরিচয়পত্র / জন্ম সনদ / মৃত্যু সনদ।
  • মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র / জন্ম সনদ / মৃত্যু সনদ।
  • স্বামী/স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র / জন্ম সনদ (বিবাহিত হলে)।
  • কাবিননামা (বিবাহিত হলে)।
  • পেশাগত কাগজপত্র (চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষার্থী)।
  • চেয়ারম্যান প্রত্যয়ন।
  • পুরাতন পাসপোর্ট / হারিয়ে গেলে জিডির কপি।
  • বিদ্যুৎ বিল / গ্যাস বিল।প্রিপেইড (কার্ড) মিটার হলে মিটার কার্ডের ছবি অথবা রিচার্জের রসিদের ফটোকপি দিতে হবে।
  • নিজের ইমেইল ও ফোন নম্বর হতে হবে।

২য় ধাপঃ- পাসপোর্ট আনয়ন

❖ পাসপোর্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট আনয়নের জন্য ডকুমেন্ট-

  • ডেলিভারি স্লিপ।

বিশেষ ক্ষেত্রে জেনে রাখুন

  • কাবিননামা: পুরাতন পাসপোর্টে আগে থেকেই স্বামী/স্ত্রীর নাম এন্ট্রি থাকলে কাবিননামা বাধ্যতামূলক নয়। তবে যাচাইয়ের জন্য পাসপোর্ট অফিস অনেক সময় চাইতে পারে, তাই সাথে রাখা ভালো।
  • ১৬ বছরের নিচে শিশু: আবেদনকারীর নিজের এবং বাবা-মায়ের পাসপোর্ট সাইজ ছবি লাগবে। পেশা হিসেবে "Others" সিলেক্ট করতে হবে।
  • নবজাতক / ছোট শিশু: যারা স্থির হয়ে ছবি তুলতে পারে না, তাদের ক্ষেত্রে শিশুর 3R সাইজ ছবি এবং বাবা-মায়ের পাসপোর্ট সাইজ ছবি লাগবে।
  • বয়স্ক আবেদনকারী: সাধারণত বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

বিঃদ্রঃ যদি কেউ পুরাতন পাসপোর্টের সাথে মিল রেখে পুনরায় পাসপোর্ট করতে চান, তবে প্রথমে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে হবে।

পুরাতন পাসপোর্টের তুলনায় এনআইডিতে নিজের নাম বা বাবা-মায়ের নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হলে, অথবা বয়সে ব্যবধান থাকলে অনেক সময় অনলাইনে আবেদন হয় না। এমন হলে আবেদনের আগে পাসপোর্ট অফিসে কথা বলে নিন, কারণ এ ধরনের পরিবর্তনে সরকারের নতুন নিয়মে অতিরিক্ত ফি লাগতে পারে।

পাসপোর্ট এর ব্যাংক ফিঃ- (১৫% ভ্যাটসহ)

  • ৫ বছরের ৪৮ পাতা = ৪,০২৫/- (রেগুলার, ১৫ কর্মদিবস)
  • ৫ বছরের ৪৮ পাতা = ৬,৩২৫/- (এক্সপ্রেস, ৭ কর্মদিবস)
  • ১০ বছরের ৪৮ পাতা = ৫,৭৫০/- (রেগুলার, ১৫ কর্মদিবস)
  • ১০ বছরের ৪৮ পাতা = ৮,০৫০/- (এক্সপ্রেস, ৭ কর্মদিবস)

✪ সকল ডকুমেন্ট কালার ফটোকপি। অরিজিনাল আইডি ও পুরাতন পাসপোর্ট নিয়ে যেতে হবে।

✪ ১৮ বছরের কম এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী আবেদনকারীরা শুধু ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট পাবেন।

পাসপোর্ট হারালে বা নষ্ট হলে করণীয়

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের পরিপত্র অনুযায়ী। পরিপত্র জারির দিন থেকেই নিয়মগুলো কার্যকর এবং আগের সকল নির্দেশনা এর মাধ্যমে সংশোধিত।

১

অনলাইনে রিপোর্ট করুন

পাসপোর্ট হারালে, চুরি হলে বা নষ্ট হলে দেরি না করে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট/অনলাইন সিস্টেমে রিপোর্ট করুন। এর ভিত্তিতে অধিদপ্তর ডাটাবেজে পাসপোর্টের স্ট্যাটাস আপডেট করবে।

২

থানায় জিডি করুন

দ্রুত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করুন। থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির সত্যতা যাচাই করে পাসপোর্ট অফিস বা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাবে।

৩

নতুন পাসপোর্টের আবেদন

৭২ ঘণ্টার মধ্যে থানার প্রতিবেদন না এলেও জিডির কপি সংযুক্ত করে আবেদন জমা দেওয়া যাবে। পাসপোর্ট অফিস Lost Circular জারি করে নতুন পাসপোর্ট দেবে।

বিদেশে পাসপোর্ট হারালে

অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট/অনলাইন সিস্টেমে রিপোর্ট করুন এবং সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাই কমিশনকে জানান। তারা Lost Circular জারি করে পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর ব্যবস্থা করবে।

এজেন্সি বা কেউ পাসপোর্ট আটকে রাখলে

জিডি তদন্তে যদি দেখা যায়, ভিসার জন্য জমা দেওয়া পাসপোর্ট কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সি অবৈধভাবে আটকে রেখেছে এবং উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না, তবে অধিদপ্তর আগের পাসপোর্ট বাতিল (Revoke) করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করতে পারবে।

ইমিগ্রেশন ও ইন্টারপোল অ্যালার্ট

তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাদের Immigration Management System (IMS)-এ আপডেট করবে। প্রয়োজনে ইন্টারপোলকে জানানো হবে, যাতে পাসপোর্টের অপব্যবহার না হয়।

নতুন পাসপোর্টের ডাটাপেজে উল্লেখ

নতুন পাসপোর্টের ডাটাপেজে স্পষ্টভাবে "Previous Passport is Reported to be Lost" লেখা থাকবে এবং ডাটাবেজেও তা আপডেট করা হবে।

তথ্য পরিবর্তন করা যাবে না

হারানো পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট নেওয়ার সময় মূল পরিচয় (নাম, জন্ম তারিখ, বাবা ও মায়ের নাম) সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না। বৈধ সংশোধন বা আইনগত পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তা আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।

আংশিক বা সম্পূর্ণ নষ্ট পাসপোর্ট

আংশিক নষ্ট হলেও চেনার মতো অংশ থাকলে তার ভিত্তিতে নতুন পাসপোর্ট দেওয়া যাবে। সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে চেনার উপায় না থাকলে তা "হারানো পাসপোর্ট" হিসেবে গণ্য হবে এবং সেই নিয়মেই আবেদন করতে হবে।

হারানো পাসপোর্ট ফিরে পেলে

রিপোর্ট করার পর (Revoke হওয়ার পর) পাসপোর্ট খুঁজে পাওয়া গেলেও তা আর ব্যবহার বা সক্রিয় করা যাবে না। পাওয়ার বিষয়টি অনলাইনে অধিদপ্তরকে জানাতে হবে; বিদেশে থাকলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে জানাতে হবে।

সহায়তা প্রয়োজন?

পাসপোর্ট হারানো, জিডি বা নতুন আবেদনের কাগজপত্র নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে জাকওয়ান ট্রাভেলস-এ যোগাযোগ করুন: 01929222954 / 01622339261

জরিমানা বা দণ্ড ফি

প্রথমবার হারালে / চুরি / নষ্ট হলে

শুধু নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি, কোনো জরিমানা নেই

দ্বিতীয়বার বা তার বেশি (প্রতিবার)

নির্ধারিত ফি + অতিরিক্ত ১০,০০০/- টাকা দণ্ড ফি

উৎস: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬। নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে, আবেদনের আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিন।

ভিডিও গাইডলাইন
Scroll to Top