ভুল থেকে বাঁচার চেকলিস্ট
প্রবাসে যাওয়ার আগে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে
ভিসা পূর্ববর্তী প্রস্তুতি
পাসপোর্ট প্রস্তুতি
প্রবাস যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তব করার প্রথম ধাপ হলো পাসপোর্ট। এটা ছাড়া অন্য কোনো প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব নয়।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
প্রবাসে যাওয়া বা ভিসার জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট লাগে। নিশ্চিত করুন সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে।
ভিসা প্রাপ্তির জন্য করনীয়
ভিসার ধরন ও সুবিধা
নিজে যেই কাজে দেশ থেকেই দক্ষ কিংবা আগ্রহী সে ধরনের কাজে মানুষ ভালো করতে পারে। তাই সে ধরন এর কাজের ভিসা খোজ করা সব দেশের অবস্থা সব সময় ভালো থাকে না সেই হিসেব টাও করা।
রিক্রটিং এজেন্ট খোজা
স্বনামধন্য রিক্রটিং এজেন্ট খোজা। না পেলে আত্নীয়র মধ্যে যে বিদেশ নেয় তাকে খোজ করা না হয় বিশ্বস্ত গ্রাম্য আদম দালাল খোজ করা।
দক্ষতা অর্জন
অদক্ষ হয়েও আপনি বিদেশ পাড়ি জমাতে পারবেন। কিন্তু ভিসা যেই কাজের উপর আসবে সেই কাজের দক্ষতা অর্জন আপনাকে কর্মক্ষেত্রে অনেক ধাপ এগিয়ে দিবে। ট্রেনিং নিন।
ভিসা পরবর্তী প্রস্তুতি
ভিসা যাচাই
শুধু অনলাইন চেক নয়। ভিসা ধরন, কাজ বেতন, কোম্পানির অস্তিত্ব, বোনাস, ওভারটাইম সকল ধরনের ভিসা জনিত সুবিধা-অসুবিধা বুঝা।
স্ব-দেশীয় বহির্গমন নীতি
স্ব-দেশীয় বহির্গমন নীতি অনুযায়ী বিএমইটি রেজি, বায়োমেট্রিক ফিঙ্গার, পিডিও ট্রেনিং, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স/ম্যানপাওয়ার,পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ডকুমেন্ট প্রস্তত করা।
গন্তব্য-দেশীয় গমন নীতি
মেডিকেল ফিট, বায়োমেট্রিক ফিঙ্গার ভিএফএস কিংবা নিজস্ব এম্বাসিতে, কোন পূর্ব পরীক্ষা প্রয়োজন হলে তা করতে পারে।
চূড়ান্ত প্রস্তুতি
বিমান টিকেট
ভিসা মেয়াদ ও গন্তব্য দেশীয় প্রতিষ্ঠানের নির্দেশিত তারিখ অনুযায়ী একটি নিবন্ধিত-স্বনামধন্য ও অভিজ্ঞ ট্রাভেল এজেন্সী থেকে টিকেট করা উচিত।
ইমিগ্রেশন প্রস্তুতি
নিজ দেশ ও গন্তব্য দেশের ইমিগ্রেশন যে সকল ডকুমেন্ট চাইতে পারে তার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে সকল ডকুমেন্ট প্রিন্ট করে সাথে রাখা। ও যে কোন প্রশ্নের জন্য মানষিক প্রস্তত থাকা।
নিয়ম-কানুন অনুসরন
গন্তব্য দেশে পৌছানোর পর সে দেশিয় ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম কানুন, রীতি-নীতি পূর্ন অনুসরন করে চলা। ভিসা রিনিও করা ও বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানো।
প্রবাসে উন্নতি করতে চাইলে
সকল প্রবাসগামীর প্রত্যাশা সে দেশে যেয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন
অতি জরুরি ৯টি বিষয়
এই ৯টি বিষয় ভালো করে বুঝলে ভিসা সংক্রান্ত কাজ হবে পানির মত সহজ
বিএমইটি রেজি
স্ব-দেশীয় নীতিতে একজন প্রবাসগামী যাত্রীর জন্য প্রথম ধাপ এটি। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন।
পিডিও ট্রেনিং
সরকারী ভাবে প্রবাস বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন ট্রেনিং করানো হয়।
ফিঙ্গার
বিএমইটি বায়োমেট্রিক নিজ জেলা হতে কোন কোন দেশ তার নিজস্ব এম্বাসি বা ভিএফএস থেকে বায়োমেট্রিক সংগ্রহ করে থাকে।
ম্যানপাওয়ার
বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স কার্ড দেশীয় সাধারনত সর্বশেষ ধাপ। যেটির দ্বারা দেশ থেকে যাত্রীকে সরকার নিবন্ধিত উপায়ে যাওয়ার চূড়ান্ত অনুমতি দান করেন।
সৌদি-কুয়েত ভিসা প্রসেস
যারা সৌাদি বা কুয়েত ভিসা করছেন তাদের জন্য একটি আদর্শ গাইডলাইন পেতে নিচে ক্লিক করুন।
সিঙ্গাপুর আইপি পরবর্তী
সিঙ্গাপুর আইপি প্রাপ্তির পরবর্তী ধাপ গুলো যেন সহজে বুঝতে পারেন তার জন্য নিচে ক্লিক করুন।
বিমান টিকেট মূল্য
বিমান টিকেটের মূল্য জানতে তারিখ ও বিভিন্ন বিমানের মূল্য তুলনা করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন।
বিমান টিকেট যাচাই
আপনাকে যে বিমান টিকেট টি হাতে দেওয়া হয়েছে তা চূড়ান্ত টিকেট কিনা এবং এর সময় তারিখ ঠিক কিনা যাচাই করুন
ভিসা যাচাই
যে ভিসা টি হাতে দেওয়া হয়েছে তা আসল ভিসা কিনা যাচাই করুন। সকল দেশের ভিসা যাচাই পদ্ধতি এক না। বেশিরভাগ দেশের ক্ষেত্রে ইউজার-পাসওয়ার্ড লাগে।
গ্রাহকের কথায় আমরা
আমাদের থেকে যারা ওয়ার্ক ভিসা প্রসেস সেবা গ্রহন করেছে তাদের চোখে আমরা কেমন জানতে ভিডিও ক্লিক করে দেখুন।
Valued Client Review
ভিডিওর মাধ্যমে বুঝতে
Support Given
Clients Rating
Money Saved
Happy Clients
Frequently Asked Questions
যে সকল প্রশ্ন আপনার মাথায় ঘুর-পাক খাচ্ছে সেগুলো নিচের কমেন্টে বলেন অবশ্যই গুছিয়ে বলবেন। আমরা ইনশাআল্লাহ সমাধান দিব এখানে আপনার প্রশ্ন পরের ব্যাক্তির রেডি উত্তর।
- VISA = Visitor International Stay Authorization
- 👉 মানে সহজ করে বললে
কোনো দেশের সরকার কর্তৃক দেওয়া অনুমতি, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেই দেশে প্রবেশ, অবস্থান বা ভ্রমণ করতে পারে। - Visa = দেশে ঢোকার অনুমতিপত্র।
- স্টিকার ভিসা
- সিল ভিসা
- ই-ভিসা/পেপার ভিসা
- অন এরাইভাল ভিসা –ইনভাইটেশন
- Tourist Visa
- Business Visa
- Work / Employment Visa
- Student Visa
- Transit Visa
- ETC.
সাধারনত ভিসা কয়েক ধরনের হয়ে থাকে: স্টিকার ভিসা, ই-ভিসা/পেপার ভিসা, অন এরাইভাল ভিসা। স্টিকার ভিসা পাওয়ার সাথে সাথে সাম্প্রতিক সময়ে যে ঐ দেশে গিয়েছে তার ভিসার সাথে মিলিয়ে দেখতে পারেন। ই-ভিসাতে অনলাইন চেক ও ভিসাটি এডিটেড কিনা বুঝার চেস্টা করেন। অন এরাইভাল ভিসা সাধারনত কোন ইনভাইটেশন থাকে তার অনলাইন যথার্থতা যাচাই করুন।
- ইমিগ্রেশন মানে হলো কোনো দেশের সীমান্ত দিয়ে মানুষের প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণের পুরো প্রক্রিয়া।
- সহজভাবে বললে
আপনি যখন এক দেশ থেকে আরেক দেশে যান, তখন যে অফিসার আপনার পাসপোর্ট, ভিসা, থাকার উদ্দেশ্য, থাকার সময় এসব যাচাই করেন, সেই জায়গাটাই ইমিগ্রেশন।
পাসপোর্ট ও ভিসা চেক করা
আপনি কেন এসেছেন সেটা যাচাই করা (ভ্রমণ, কাজ, পড়াশোনা, ট্রানজিট)
কতদিন থাকবেন তা নিশ্চিত করা
প্রবেশ অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়া
অবৈধ যাত্রা, মানবপাচার বা নিরাপত্তা ঝুঁকি ঠেকানো
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে
ডিপার্চার ইমিগ্রেশন: দেশ ছাড়ার সময় এয়ারপোর্টে
এরাইভাল ইমিগ্রেশন: বিদেশে নামার পর
- PDO = Pre-Depurture Orientation Program
- যা বলতে মুলত বুঝায়: বিদেশ যাওয়ার পূর্বে সরকারি ভাবে সম্পাদিত পূর্ব প্রস্তুতিমূলক একটি প্রশিক্ষন কর্মসুচি।
- যারা কাজের ভিসায় প্রবাস গমন করবে তারা এই গমন পূর্ববর্তী সময়ে এই প্রশিক্ষনে অংশ নিয়ে নিজেদের কে কিছুটা দক্ষ করে গড়ে তুলবেন।
- কিভাবে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ক্রস করতে হয় বৈধ উপায়ে?
- কিভাবে গন্তব্য দেশ এর ইমিগ্রেশন পাড়ি দিতে হয় বৈধ ভাবে?
- কিভাবে ভিসা পাওয়ার পর এদেশীয় কার্জক্রম পরিচালনা করতে হয়?
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স কি, কেন, কিভাবে?
- প্রবাসে যেয়ে সেখানে কোন কোন নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়?
- বাংলাদেশ সরকারের কোন কোন নিয়ম মেনে প্রবাস পারি দেওয়া বাধ্যতামূলক?
- কোথায় কোন আচরন বিধি মেনে চলতে হয়?
- কি ধরনের এজেন্সী হতে ভিসা করতে হয়?
- টিকেটের প্রতারনা কিভাবে এড়িয়ে চলতে হয়?
- ভিসার প্রতারনা কিভাবে এড়িয়ে চলতে হয়?
- BMET = Borrow of Manpower Employment & Training.
- এটি বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এর অধীনে একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান। এর মূল কাজ হলো বাংলাদেশের শ্রমিকদের বৈদেশিক কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ প্রেরণ নিয়ন্ত্রণ ও সুবিধা প্রদান।
- Manpower Export Regulation: শ্রমিক প্রেরণ নিয়ন্ত্রণ:
BMET বৈধভাবে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর জন্য নিয়োগকারী এজেন্সিগুলোকে লাইসেন্স প্রদান ও তদারকি করে। - Employment Facilitation:কর্মসংস্থান সুবিধা প্রদান:
বিদেশে চাকরির সুযোগ, আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারের চাহিদা, এবং বিভিন্ন দেশের দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করে। - Skills Training & Development:দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ:
BMET বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করে যাতে শ্রমিকরা বিদেশে কাজের জন্য প্রস্তুত হয় এবং তাদের আয়ের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। - Worker Protection:শ্রমিক সুরক্ষা:
বিদেশে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করতে দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে সহায়তা করে। এছাড়াও, নির্যাতন, বেতন বকেয়া বা অন্যান্য সমস্যা হলে সাহায্য করে। - Statistical & Policy Role:পরিসংখ্যান ও নীতি নির্ধারণে সহায়ক:
প্রবাসী কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্স, ও শ্রম বাজারের তথ্য সংগ্রহ করে সরকারের নীতি নির্ধারণে সহায়তা করে।
- BMET Registration
- PDO Training
- BMET Biometric Finger
- BMET Clearance/Manpower
- দেশীয় লাইসেন্সপ্রাপ্ত Recruiting Agency।
- পরিচিত কেউ (আত্মীয়/বন্ধু)। বিদেশ থেকে ভিসা
- Agent বা গ্রাম্য দালাল।
- শুরুতে যা যাচাই করবে:-
- BMET লাইসেন্স = লাইসেন্স নাম্বার আছে কি না, BMET ওয়েবসাইটে সার্চ করে মিলিয়ে নাও।
- প্রতিষ্ঠানের অফিস = ফিজিক্যাল অফিস আছে কি না, সাইনবোর্ড, ট্রেড লাইসেন্স দেখা ।
- কোম্পানির অভিজ্ঞতা = আগে কোন দেশে লোক পাঠিয়েছে, রেফারেন্স বা আগের কর্মীদের কথা ।
- ভিসা পাওয়ার পর যাচাই:-
- ভিসার টাইপ = Work / Employment Visa কি না, Tourist বা Visit হলে সতর্ক হও।
- Sponsor / Employer Name = ভিসার স্পনসর নাম Offer Letter-এর সাথে মিলছে কি না।Contract / Offer Letter
- কোম্পানির লেটারহেড = সাইন ও সিল আছে কি না, কাজের পদ, বেতন, ডিউটি লেখা আছে কি না।
- BMET Smart Card = মেডিকেল, PCC, Fingerprint, Training (যদি লাগে)
- Flight Ticket = ভিসার দেশ অনুযায়ী রুট ঠিক আছে কি না?
- 👉 ভিসা + BMET + Contract সব মিললে তবেই যাওয়া উচিত।
- শুরুতেই যাচাই
- ভিসার কপি নিজে দেখো = WhatsApp screenshot না, PDF বা clear scan
- ভিসার ধরন
- Work Visa হলে OK
- Visit / Free Visa হলে খুব সতর্ক
- Sponsor যাচাই
- Sponsor ব্যক্তি না কোম্পানি
- ব্যক্তি হলে তার Resident ID / Iqama কপি
- কোম্পানি হলে Company Registration
- সে ব্যক্তি আসলেই ঐ দেশে আছে কি না
- Live video call
- তার কাজের জায়গা দেখানো
- বাস্তব যাচাই
- আগে কাউকে নিয়েছে কি না
- বাংলাদেশে পাঠানো লোকের সাথে কথা
- চুক্তি আছে কি না
- না থাকলে ঝুঁকি অনেক
- 👉 পরিচিত হলেও blind trust করা যাবে না।
- এটাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
- প্রথম সতর্ক সংকেত
- ❌ অফিস নাই
❌ শুধু মোবাইল নাম্বার
❌ “চিন্তা নাই”, “সব আমি দেখবো”
❌ Tourist ভিসাকে Work বলে চালানো
- ❌ অফিস নাই
- যদি নিতেই হয় (না নেওয়াই ভালো)
- ভিসার Original PDF নিজে চেক
- Sponsor Name Google করে দেখো
- Embassy/BMET কাউকে দেখাও
- Advance টাকা একদম কম দাও
- লিখিত চুক্তি ছাড়া টাকা দিও না
- যেসব ভিসা হলে যাবেই না
- 🚫 Visit Visa
🚫 Free Visa
🚫 Company Name ছাড়া Visa
🚫 Contract ছাড়া Visa 👉 দালালের মুখের কথা = কোন প্রমাণ না।
- টিকিট ইস্যুকারী ট্রাভেল এজেন্সি লাইসেন্সড কি না
- এজেন্সি কি ভিসা, কাজের ধরন ও যাত্রীর অবস্থা পুরোপুরি বুঝে টিকিট করছে
- BMET ও অন্যান্য বাধ্যতামূলক প্রসেস ক্লিয়ার না দেখে টিকিট করা হচ্ছে কি না
- এজেন্সির আগের কাজের রেকর্ড ও বিশ্বাসযোগ্যতা
(অভিযোগ, যাত্রী আটকে যাওয়া, রিটার্ন কেস ইত্যাদি) - নির্বাচিত এয়ারলাইন্স ও রুট শ্রমিকদের জন্য উপযোগী কি না
- ট্রানজিট নিয়ম ও ঝুঁকি আগে থেকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে কি না
- টিকিটের শর্তাবলি যাত্রীকে স্পষ্টভাবে জানানো হচ্ছে কি না
নকল বাংলাদেশে অনেক কিছুই হয় সরকারি ম্যানপাওয়ার চেক করার সাইট থেকে যথার্থতা যাচাই করুন।
প্রত্যেক বিমানের নিজস্ব টিকেট চেক এর ব্যবস্থা আছে। পিএনআর কিংবা টিকেট নাম্বার ও নামের শেষের অক্ষর দিয়ে যাচাই করুন।
বিদেশে যাওয়ার সময় Check-in Bag হিসেবে ভালো মানের ট্রলি ব্যাগ বা শক্ত লাগেজ ব্যবহার করা উচিত।
কার্টন, বস্তা বা অগোছালো প্যাকেট নিয়ে গেলে এয়ারপোর্টে বহন করতে সমস্যা হয় এবং বিদেশে গিয়ে নিজের উপস্থাপনাও খারাপ দেখায়।
একজন বিদেশগামী কর্মীরও পরিচ্ছন্ন, স্মার্ট ও সম্মানজনকভাবে যাত্রা করা উচিত।
ভালো প্যাকিংয়ের জন্য করণীয়:
- শক্ত ট্রলি ব্যাগ ব্যবহার করুন
- ব্যাগে নাম, মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা লিখে রাখুন
- অতিরিক্ত ওজন করবেন না
- ভাঙার মতো জিনিস ভালোভাবে প্যাক করুন
- নিষিদ্ধ জিনিস ব্যাগে রাখবেন না
- অচেনা কারো দেওয়া কোনো প্যাকেট বহন করবেন না
বিদেশ যাত্রা শুধু কাজের জন্য নয়, এটি নিজের দেশ ও নিজের পরিচয় বহন করার বিষয়। তাই যাত্রার শুরু থেকেই পরিপাটি ও সচেতন থাকা জরুরি।
✅ ১. সবসময় ভদ্রভাবে কথা বলবেন
ক্রুদের কাজ হলো যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করা। তাই কথা বলবেন শান্তভাবে।
যেমন:
“Excuse me, পানি পাওয়া যাবে?”
“Can you help me, please?”
“Thank you.”
✅ ২. নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন
বিমানে ক্রু যা বলেন তা নিরাপত্তার জন্য। যেমন:
- সিট বেল্ট বাঁধা
- মোবাইল Airplane Mode করা
- খাবারের ট্রে বন্ধ করা
- সিট সোজা করা
- টেক-অফ ও ল্যান্ডিংয়ের সময় না ওঠা
✅ ৩. বারবার ডাকাডাকি করবেন না
খুব জরুরি না হলে বারবার ক্রু ডাকবেন না। দরকার হলে সিটের পাশে থাকা call button চাপতে পারেন।
✅ ৪. খাবার বা পানি চাইলে ধৈর্য ধরবেন
সব যাত্রীকে সার্ভ করতে সময় লাগে। আগে-পিছে একটু অপেক্ষা করতে হবে।
✅ ৫. রাগ, উচ্চস্বরে কথা বা তর্ক করবেন না
বিমানে চিৎকার করা, ক্রুদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা, ঝগড়া করা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। অনেক দেশে এটি আইনগত ঝামেলাও হতে পারে।
✅ ৬. অসুস্থ লাগলে সাথে সাথে জানান
মাথা ঘোরা, বমি ভাব, বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্ট হলে লজ্জা না করে ক্রুকে বলবেন।
বলতে পারেন:
“I am feeling sick.”
“I need help.”
✅ ১. সিট বেল্ট সাইন বন্ধ থাকলে ওয়াশরুমে যাবেন
যখন seat belt sign ON থাকে, তখন ওঠা যাবে না। বিশেষ করে টেক-অফ, ল্যান্ডিং বা ঝাঁকুনির সময়।
✅ ২. দরজা ভালোভাবে লক করবেন
ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে Lock করবেন। লক করলে বাইরে “Occupied” দেখাবে।
✅ ৩. টয়লেট পেপার ব্যবহার করবেন
বিমানের ওয়াশরুমে সাধারণত পানি ব্যবহার করার সুবিধা কম থাকে। তাই টয়লেট পেপার ব্যবহার করতে হয়।
✅ ৪. ব্যবহারের পর Flush করবেন
কাজ শেষ হলে Flush বাটন চাপবেন। শব্দ একটু জোরে হতে পারে, ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
✅ ৫. টয়লেটে কিছু ফেলবেন না
কমোডে শুধু টয়লেট পেপার ফেলবেন।
নিচের জিনিসগুলো ফেলবেন না:
- পলিথিন
- বোতল
- কাপ
- টিস্যুর প্যাকেট
- স্যানিটারি প্যাড
- ডায়াপার
- খাবারের প্যাকেট
এগুলো ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।
✅ ৬. হাত ধুয়ে বের হবেন
ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধুবেন। পানি কম থাকলে টিস্যু বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন।
✅ ৭. ওয়াশরুম পরিষ্কার রেখে বের হবেন
পরের যাত্রীও ব্যবহার করবে, তাই ভেজা টিস্যু, পানি বা ময়লা রেখে আসবেন না।
✅ ৮. ধূমপান করা সম্পূর্ণ নিষেধ
বিমানের ওয়াশরুমে সিগারেট বা vape ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। Smoke detector থাকে, ধরা পড়লে বড় সমস্যা হতে পারে।
✅ ১. ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বসে থাকবেন
নিজে নিজে লাইনে দাঁড়াবেন না। আগে boarding announcement শুনবেন।
বোর্ডিং সাধারণত গ্রুপ/সিট/জোন অনুযায়ী হয়।
✅ ২. পাসপোর্ট ও বোর্ডিং পাস হাতে রাখবেন
গেটে যাওয়ার সময় এগুলো বারবার লাগতে পারে:
- পাসপোর্ট
- বোর্ডিং পাস
- ভিসা/ওয়ার্ক পারমিট কপি, দরকার হলে
- BMET/Manpower কাগজ, দরকার হলে
ব্যাগের গভীরে রেখে দেবেন না।
✅ ৩. লাইন মেনে দাঁড়াবেন
ধাক্কাধাক্কি, আগে যাওয়ার চেষ্টা, ভিড় করা যাবে না।
সবাই একই বিমানে উঠবে, তাই তাড়াহুড়া করার দরকার নেই।
✅ ৪. অন্যের বোর্ডিং পাস বা পাসপোর্ট হাতে নেবেন না
অনেক সময় গ্রুপে গেলে একজন সবার কাগজ নিয়ে রাখে। এটা ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রত্যেকে নিজের পাসপোর্ট ও বোর্ডিং পাস নিজের কাছে রাখবে।
✅ ৫. গেটের স্টাফ বা এয়ারলাইন্স কর্মীদের কথা শুনবেন
তারা বললে পাসপোর্ট দেখাবেন, বোর্ডিং পাস স্ক্যান করাবেন, তারপর সামনে এগোবেন।
✅ ৬. বিমানে ওঠার পথে ছবি/ভিডিও কম করবেন
বোর্ডিং ব্রিজ, রানওয়ে বা নিরাপত্তা এলাকায় অনেক সময় ছবি/ভিডিও করা নিষেধ থাকে।
স্টাফ নিষেধ করলে সাথে সাথে বন্ধ করবেন।
✅ ৭. হ্যান্ড ব্যাগ নিজের সাথে রাখবেন
ল্যাপটপ ব্যাগ, ছোট ব্যাগ, ডকুমেন্ট ব্যাগ নিজের কাছেই রাখবেন।
অচেনা কারো ব্যাগ ধরবেন না, কারো দেওয়া কিছু বহন করবেন না।
✅ ৮. সিট নম্বর আগে দেখে নেবেন
বোর্ডিং পাসে সিট নম্বর থাকে, যেমন: 21A, 35C।
বিমানে উঠে অযথা সামনে-পেছনে ঘোরাঘুরি না করে নিজের সিট খুঁজবেন।
✅ ৯. বিমানে ঢুকে ক্রুদের সালাম/হ্যালো দিয়ে এগিয়ে যাবেন
ভদ্রভাবে আচরণ করবেন। সিট না পেলে ক্রুকে বলতে পারেন:
“Excuse me, can you help me find my seat?”
✅ ১০. সিটে বসে দ্রুত ব্যাগ রাখবেন
বড় হ্যান্ড ব্যাগ উপরের বক্সে রাখবেন। ছোট ব্যাগ সিটের নিচে রাখা যায়।
রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে থাকবেন না, কারণ পেছনের যাত্রীরা উঠতে থাকে।
⚠️ বিশেষ সতর্কতা
কেউ যদি বলে, “ভাই এই প্যাকেটটা/ব্যাগটা একটু নিয়ে যান”, কখনোই নিবেন না।
বিদেশ যাত্রায় নিজের জিনিস ছাড়া অন্য কারো জিনিস বহন করা খুব বড় ঝুঁকি।
ঢাকা এয়ারপোর্টের অফিসিয়াল Departure Guideline অনুযায়ী, যাত্রীরা আগে check-in process শেষ করে, তারপর passport, boarding card এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে immigration formalities সম্পন্ন করেন। ইমিগ্রেশনের পর পাসপোর্টে সিল আছে কি না নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
✅ ১. এয়ারপোর্টে ঢোকার আগে প্রস্তুতি
এয়ারপোর্টে ঢোকার আগে সব কাগজপত্র হাতের কাছে রাখবেন।
হাতে রাখবেন:
- পাসপোর্ট
- টিকেট / e-ticket
- ভিসা / ওয়ার্ক পারমিট / এন্ট্রি পারমিট
- BMET / Manpower Clearance, যদি প্রযোজ্য হয়
- Training Certificate / PDO কাগজ, যদি লাগে
- চাকরির কাগজ / কোম্পানির কাগজ
- গন্তব্য দেশের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর
- হোটেল বুকিং / ইনভাইটেশন, যদি ট্যুরিস্ট ভিসা হয়
- রিটার্ন টিকেট, যদি প্রয়োজন হয়
খুব গুরুত্বপূর্ণ:
নিজের পাসপোর্ট ও কাগজপত্র নিজের কাছেই রাখবেন।
দালাল, অপরিচিত ব্যক্তি বা গ্রুপের অন্য কারো কাছে পাসপোর্ট দিয়ে রাখবেন না।
✅ ২. এয়ারপোর্টে প্রবেশের সময় করণীয়
এয়ারপোর্টের গেটে সাধারণত নিরাপত্তা কর্মী টিকেট ও পাসপোর্ট দেখতে চাইতে পারে।
করণীয়:
- লাইনে দাঁড়াবেন
- পাসপোর্ট ও টিকেট দেখাবেন
- নিরাপত্তা কর্মীর প্রশ্নের উত্তর শান্তভাবে দেবেন
- অকারণে তর্ক করবেন না
- ছবি/ভিডিও করতে চাইলে আগে অনুমতি আছে কি না বুঝে নেবেন
বলতে পারেন:
“I am travelling to Saudi Arabia.”
“This is my ticket and passport.”
“I am going for work.”
✅ ৩. প্রথম স্ক্যানিং / সিকিউরিটি চেক
এয়ারপোর্টে ঢোকার পর অনেক সময় ব্যাগ স্ক্যান করা হয়। নিরাপত্তার কারণে ব্যাগ X-ray machine দিয়ে যায়, আর যাত্রী metal detector দিয়ে যায়।
করণীয়:
- ব্যাগ স্ক্যানিং বেল্টে দেবেন
- পকেট থেকে মোবাইল, কয়েন, চাবি, ঘড়ি বের করতে বলা হলে বের করবেন
- নিরাপত্তা কর্মী ব্যাগ খুলতে বললে শান্তভাবে খুলবেন
- নিজের ব্যাগ নিজে খেয়াল রাখবেন
- স্ক্যানিং শেষে ব্যাগ ঠিকমতো নিয়েছেন কি না দেখে নেবেন
ব্যাগে রাখা যাবে না:
- ধারালো ছুরি / ব্লেড
- লাইটার / ম্যাচ
- অতিরিক্ত তরল জিনিস
- নিষিদ্ধ ওষুধ
- অন্যের দেওয়া প্যাকেট
- অজানা কোনো খাবার বা জিনিস
বিশেষ সতর্কতা:
কেউ যদি বলে, “ভাই এই প্যাকেটটা একটু নিয়ে যান”, কখনোই নিবেন না।
এয়ারপোর্টে নিজের জিনিস ছাড়া অন্য কারো কিছু বহন করা খুব বড় ঝুঁকি।
✅ ৪. এয়ারলাইন্স কাউন্টারে যাওয়ার আগে
স্ক্যানিং শেষে আপনার এয়ারলাইন্সের কাউন্টার খুঁজে বের করবেন।
কীভাবে বুঝবেন কোন কাউন্টারে যাবেন?
এয়ারপোর্টের স্ক্রিনে দেখবেন:
- Flight number
- Destination
- Airline name
- Check-in counter number
- Gate information
উদাহরণ:
BG 347 → Dubai → Counter 12-15
QR 641 → Doha → Counter 20-24
না বুঝলে এয়ারপোর্ট স্টাফকে জিজ্ঞেস করবেন।
বলতে পারেন:
“Excuse me, where is Biman Bangladesh counter?”
“Can you show me Qatar Airways check-in counter?”
✅ ৫. এয়ারলাইন্স কাউন্টারে করণীয়
এখানে আপনার check-in হবে। এয়ারলাইন্স আপনার পাসপোর্ট, টিকেট, ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করবে। এরপর লাগেজ জমা নেবে এবং boarding pass দেবে।
কাউন্টারে যা দেখাতে হতে পারে:
- পাসপোর্ট
- টিকেট
- ভিসা / ওয়ার্ক পারমিট
- BMET / Manpower Clearance
- গন্তব্য দেশের ডকুমেন্ট
- রিটার্ন টিকেট, যদি লাগে
- হোটেল বুকিং / ইনভাইটেশন, যদি লাগে
লাগেজ দেওয়ার সময়:
- লাগেজের ওজন ঠিক আছে কি না দেখবেন
- লাগেজে নিষিদ্ধ জিনিস আছে কি না নিশ্চিত করবেন
- লাগেজ ট্যাগ / baggage receipt সংগ্রহ করবেন
- বোর্ডিং পাস হাতে নেবেন
- বোর্ডিং পাসে নাম, flight number, gate, seat number দেখে নেবেন
কাউন্টারে ভদ্রভাবে উত্তর দেবেন:
“I am going for work.”
“This is my visa copy.”
“This is my manpower clearance.”
“My final destination is Riyadh.”
✅ ৬. Boarding Pass পাওয়ার পর কী করবেন?
Boarding pass পাওয়ার পর আপনার হাতে সাধারণত ২টি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস থাকবে:
- Passport
- Boarding Pass
এগুলো কখনোই ব্যাগের গভীরে রাখবেন না। সামনে সহজ জায়গায় রাখবেন।
বোর্ডিং পাসে দেখবেন:
- আপনার নাম ঠিক আছে কি না
- Flight number
- Seat number
- Gate number
- Boarding time
- Destination
✅ ৭. ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়ানো
চেক-ইন শেষ হলে ইমিগ্রেশনের দিকে যাবেন। HSIA-এর Departure Guideline অনুযায়ী check-in শেষে যাত্রীদের passport, boarding card এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে immigration formalities সম্পন্ন করতে হয়।
ইমিগ্রেশনে যাওয়ার আগে হাতে রাখবেন:
- পাসপোর্ট
- Boarding pass
- ভিসা / ওয়ার্ক পারমিট
- BMET / Manpower Clearance
- কোম্পানির কাগজ, যদি প্রয়োজন হয়
- গন্তব্য দেশের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর
লাইনে করণীয়:
- ধাক্কাধাক্কি করবেন না
- মোবাইলে উচ্চস্বরে কথা বলবেন না
- অফিসারের সামনে শান্ত থাকবেন
- প্রশ্ন করলে সংক্ষেপে সঠিক উত্তর দেবেন
- মিথ্যা কথা বলবেন না
✅ ৮. ইমিগ্রেশন অফিসার কী প্রশ্ন করতে পারেন?
ইমিগ্রেশন অফিসার সাধারণত আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, গন্তব্য ও কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে পারেন।
সম্ভাব্য প্রশ্ন ও সহজ উত্তর:
প্রশ্ন: কোথায় যাবেন?
উত্তর: আমি সৌদি আরব যাচ্ছি।
প্রশ্ন: কেন যাচ্ছেন?
উত্তর: কাজের জন্য যাচ্ছি।
প্রশ্ন: কোন কোম্পানিতে যাবেন?
উত্তর: আমার কোম্পানির নাম এখানে আছে।
English: “My company name is written here.”
প্রশ্ন: আপনার ভিসা আছে?
উত্তর: জি, এটা আমার ভিসা কপি।
প্রশ্ন: Manpower / BMET আছে?
উত্তর: জি, এটা আমার manpower clearance.
প্রশ্ন: আগে কখনো বিদেশ গিয়েছেন?
উত্তর: জি / না।
প্রশ্ন: গন্তব্য দেশে কে রিসিভ করবে?
উত্তর: কোম্পানির প্রতিনিধি / আমার আত্মীয় / স্পন্সর রিসিভ করবে।
✅ ৯. ইমিগ্রেশনে যেসব ভুল করা যাবে না
- মিথ্যা কথা বলা যাবে না
- অন্যের কাগজ দেখানো যাবে না
- অফিসারের সাথে তর্ক করা যাবে না
- ভয় পেয়ে ভুল তথ্য বলা যাবে না
- মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে কাউন্টারে দাঁড়ানো যাবে না
- পাসপোর্ট অফিসারের হাতে দেওয়ার পর অস্থির হওয়া যাবে না
- ইমিগ্রেশন সিল না দেখে চলে যাওয়া যাবে না
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ:
ইমিগ্রেশন শেষ হলে পাসপোর্টে departure seal / exit seal আছে কি না দেখে নেবেন। ঢাকা এয়ারপোর্টের নির্দেশনাতেও ইমিগ্রেশনের পর পাসপোর্টে সিল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
✅ ১০. ইমিগ্রেশন শেষ হওয়ার পর
ইমিগ্রেশন শেষ হলে আপনি departure area / waiting lounge-এ যাবেন।
এরপর করণীয়:
- নিজের Gate number দেখে নেবেন
- Flight screen দেখে update মিলিয়ে নেবেন
- পানি, খাবার, ওয়াশরুম দরকার হলে ব্যবহার করবেন
- ফোন চার্জ দরকার হলে চার্জ করবেন
- boarding announcement শুনবেন
- সময়ের আগে Gate-এর কাছে থাকবেন
খুব জরুরি:
Boarding pass-এ gate লেখা থাকলেও অনেক সময় gate পরিবর্তন হতে পারে। তাই screen ও announcement খেয়াল করবেন।
এয়ারপোর্টের গেটে সাধারণত নিরাপত্তা কর্মী টিকেট ও পাসপোর্ট দেখতে চাইতে পারে।
করণীয়:
- লাইনে দাঁড়াবেন
- পাসপোর্ট ও টিকেট দেখাবেন
- নিরাপত্তা কর্মীর প্রশ্নের উত্তর শান্তভাবে দেবেন
- অকারণে তর্ক করবেন না
- ছবি/ভিডিও করতে চাইলে আগে অনুমতি আছে কি না বুঝে নেবেন
বলতে পারেন:
“I am travelling to Saudi Arabia.”
“This is my ticket and passport.”
“I am going for work.”
✅ ধাপ ১: Online Apply + Fee Payment
প্রথমে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আবেদন করার সময় নিজের তথ্য, পাসপোর্টের তথ্য, ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করতে হয়।
এই ধাপে যা লাগে:
- পাসপোর্ট
- পাসপোর্টের তথ্য পাতার স্ক্যান কপি
- বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা
- মোবাইল নম্বর
- প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ঠিকানার প্রমাণ
- আবেদন ফি
বাংলাদেশ পুলিশের PCC ওয়েবসাইট অনুযায়ী, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায় এবং আবেদনকারীর কমপক্ষে ৩ মাস মেয়াদ সম্পন্ন পাসপোর্ট থাকতে হয়। বর্তমান ঠিকানা হিসেবে পাসপোর্টে থাকা স্থায়ী অথবা জরুরি ঠিকানার যেকোনো একটি ব্যবহার করতে হয়।
Fee Payment:
বর্তমানে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের সরকারি ফি ১,৫০০ টাকা। এটি বাংলাদেশ ব্যাংক/সোনালী ব্যাংকের ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে অথবা অনলাইনে কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়। অনলাইনে পেমেন্ট করলে প্রযোজ্য সার্ভিস চার্জ যোগ হতে পারে।
সাধারণ ভুল:
- পাসপোর্টের তথ্য ভুল দেওয়া
- ঠিকানা ভুল দেওয়া
- ভুল থানার ঠিকানা নির্বাচন করা
- অস্পষ্ট স্ক্যান কপি আপলোড করা
- ফি দেওয়ার পর রেফারেন্স নম্বর সংরক্ষণ না করা
✅ ধাপ ২: Thana Verification
আবেদন সাবমিট ও পেমেন্টের পর আবেদনটি সংশ্লিষ্ট থানায় ভেরিফিকেশনের জন্য যায়। আবেদন ফরমে দেওয়া বর্তমান ঠিকানা যে জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকায়, সেই ঠিকানায় পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়।
এই ধাপে যা হতে পারে:
- থানা থেকে ফোন আসতে পারে
- পুলিশ সদস্য বাসায়/ঠিকানায় যাচাই করতে পারেন
- আবেদনকারীকে থানায় যেতে বলা হতে পারে
- পাসপোর্ট, NID, আবেদন কপি বা অন্যান্য কাগজ দেখতে চাইতে পারে
আবেদনকারীর করণীয়:
- ফোন চালু রাখা
- ঠিকানায় উপস্থিত থাকা বা পরিবারের কাউকে জানিয়ে রাখা
- সত্য তথ্য দেওয়া
- পাসপোর্ট ও আবেদন কপি প্রস্তুত রাখা
- পুলিশ সদস্যের সাথে ভদ্র আচরণ করা
সাধারণ ভুল:
- ফোন বন্ধ রাখা
- ঠিকানা ভুল দেওয়া
- বাসার লোকজনকে আগে থেকে না জানানো
- আবেদনকারী কোথায় থাকে তা পরিবার জানে না
- তথ্য গোপন করা বা ভুল তথ্য দেওয়া
✅ ধাপ ৩: SP Office / সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে Certificate Collection
ভেরিফিকেশন শেষ হলে আবেদনটি অনুমোদনের দিকে যায়। এরপর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রস্তুত হলে নির্ধারিত অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হয়।
বাংলাদেশ পুলিশের PCC ওয়েবসাইট অনুযায়ী, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ডেলিভারি নিতে প্রার্থীর পাসপোর্টের কপি অথবা আবেদনের কপি সাথে নিতে হয়। প্রার্থী বিদেশে থাকলে অনুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে সংগ্রহের জন্য Embassy বা Justice of Peace কর্তৃক সত্যায়িত Authorization Letter লাগতে পারে।
সংগ্রহের সময় যা সাথে রাখবেন:
- আবেদন কপি / রেফারেন্স কপি
- পাসপোর্ট কপি
- মূল পাসপোর্ট, চাইলে দেখাতে হতে পারে
- যিনি অন্যের পক্ষে নিতে যাবেন, তার Authorization Letter
- সংগ্রহকারীর NID কপি, দরকার হলে
সংগ্রহের পর যা চেক করবেন:
- নাম ঠিক আছে কি না
- পাসপোর্ট নম্বর ঠিক আছে কি না
- জন্মতারিখ ঠিক আছে কি না
- ঠিকানা ঠিক আছে কি না
- সিল ও স্বাক্ষর আছে কি না
- QR / verification information ঠিক আছে কি না
বিদেশগামী কর্মীদের কাগজপত্রের মেয়াদ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা খুব জরুরি। BMET Registration সাধারণত বছরে একবার আপডেট রাখা ভালো। তবে একই পাসপোর্ট, একই তথ্য এবং একই দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় সমস্যা হয় না। কিন্তু পাসপোর্ট, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা, পেশা বা গন্তব্য দেশের তথ্য পরিবর্তন হলে BMET Registration আপডেট করা উচিত।
BMET PDO Training সাধারণত destination country অনুযায়ী একবার করলেই হয়। অর্থাৎ একজন কর্মী যে দেশের জন্য PDO Training করেছেন, সেই দেশ থেকে দেশে ফিরে আবার একই দেশে অন্য কোম্পানিতে গেলেও সাধারণত নতুন করে PDO Training করতে হয় না। তবে দেশ পরিবর্তন করলে নতুন করে সেই দেশের জন্য PDO Training করতে হতে পারে।
BMET Finger / Biometric সাধারণত ভিসা ও কোম্পানি অনুযায়ী প্রতিবার করতে হয়। নতুন ভিসা, নতুন কোম্পানি বা নতুন processing হলে আবার finger/biometric প্রয়োজন হতে পারে।
BMET Clearance / Manpower সাধারণত ভিসা ও কোম্পানি অনুযায়ী প্রতিবার করতে হয়। অর্থাৎ নতুন visa/company হলে নতুন করে manpower clearance নিতে হয়। তবে কোনো কর্মী ছুটিতে দেশে এসে আবার একই চাকরি, একই কোম্পানি বা একই ভিসায় ফিরে গেলে সাধারণত নতুন করে manpower clearance করার প্রয়োজন হয় না।
Police Clearance Certificate সাধারণত ৩ মাসের মধ্যে ব্যবহার করা নিরাপদ ধরা হয়। তাই বিদেশ যাত্রা বা ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় police clearance খুব আগে করে রাখা ঠিক নয়। প্রসেসিংয়ের সময় হিসাব করে police clearance করা ভালো।
Medical Fit Certificate সাধারণত ২ মাসের মধ্যে ব্যবহার করা হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে medical report MOFA করা হলে মেয়াদ আরও ১ মাস পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে medical-এর মেয়াদ দেশ, embassy এবং processing system অনুযায়ী আলাদা হতে পারে, তাই final processing-এর আগে সংশ্লিষ্ট নিয়ম মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
Visa Validity সবসময় visa expiry date-এর আগে ব্যবহার করতে হয়। ভিসায় যে শেষ তারিখ দেওয়া থাকে, তার আগে ভ্রমণ, এন্ট্রি বা প্রয়োজনীয় প্রসেস সম্পন্ন করতে হবে। অনেক সময় visa validity এবং stay validity আলাদা হয়, তাই ভিসার কাগজ ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।
Passport Validity সাধারণত ৫ বছর বা ১০ বছরের জন্য হয়ে থাকে। তবে বিদেশ যাত্রার সময় শুধু পাসপোর্ট আছে কিনা দেখলেই হবে না, পাসপোর্টে পর্যাপ্ত মেয়াদ আছে কি না সেটাও দেখতে হবে। অনেক দেশে ভ্রমণ বা ভিসার জন্য পাসপোর্টে কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকা প্রয়োজন হয়।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, সব কাগজের মেয়াদ এক রকম নয়। BMET Registration আপডেট রাখা, PDO দেশ অনুযায়ী সম্পন্ন করা, Finger/Biometric ও Manpower visa/company অনুযায়ী করা, Police Clearance ৩ মাসের মধ্যে ব্যবহার করা, Medical Fit সাধারণত ২ মাসের মধ্যে ব্যবহার করা এবং Visa expiry date-এর আগে যাত্রা নিশ্চিত করা বিদেশগামী কর্মীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
প্রবাসে কাজের জায়গায় সময়মতো উপস্থিত হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।
দেরি করলে কোম্পানির বিশ্বাস নষ্ট হয় এবং চাকরির ওপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।
সময় মেনে চলা একজন দায়িত্বশীল কর্মীর বড় পরিচয়।
কাজের জায়গায় বস বা সুপারভাইজারের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।
কাজ বুঝতে সমস্যা হলে তর্ক না করে ভদ্রভাবে জিজ্ঞেস করতে হবে।
নিয়ম মানলে কাজের পরিবেশ ভালো থাকে এবং চাকরিতে স্থায়িত্ব আসে।
কাজের জায়গায় ভদ্র, শান্ত এবং দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।
সহকর্মীদের সাথে ঝগড়া, উচ্চস্বরে কথা বলা বা অপমানজনক আচরণ করা যাবে না।
সবসময় নিজের কাজ ঠিকভাবে করার চেষ্টা করতে হবে।
বেতন সবসময় বৈধ পথে ব্যাংক, এক্সচেঞ্জ হাউস বা অনুমোদিত মানি ট্রান্সফার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো উচিত।
হুন্ডি বা অবৈধ পথে টাকা পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনগত সমস্যার কারণ হতে পারে।
বৈধ পথে টাকা পাঠালে দেশের অর্থনীতিও উপকৃত হয়।
হুন্ডি অবৈধ এবং এতে টাকা হারানোর ঝুঁকি থাকে।
অনেক সময় হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো টাকার কোনো প্রমাণ থাকে না।
ভবিষ্যতে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সম্পদ প্রমাণ বা পরিবারের কাজে বৈধ remittance খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
যে দেশে কাজ করবেন, সেই দেশের আইন-কানুন মানা বাধ্যতামূলক।
ট্রাফিক আইন, কাজের নিয়ম, বাসস্থানের নিয়ম, পাবলিক প্লেসের নিয়ম সবকিছু মেনে চলতে হবে।
আইন না মানলে জরিমানা, জেল, ডিপোর্ট বা চাকরি হারানোর ঝুঁকি হতে পারে।
ময়লা-আবর্জনা সবসময় নির্দিষ্ট ডাস্টবিন বা নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে।
রাস্তা, বাসা, ডরমিটরি বা কাজের জায়গায় যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা যাবে না।
অনেক দেশে এ ধরনের ভুলের জন্য জরিমানা হতে পারে।
বাসস্থান বা ডরমিটরিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
রুমমেটদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে এবং শব্দ, ঝগড়া বা অশান্তি এড়িয়ে চলতে হবে।
কোম্পানি বা মালিকের দেওয়া নিয়ম মেনে চলা উচিত।
কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথমে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রয়োজনে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে এবং কোম্পানিকে জানাতে হবে।
বড় সমস্যা হলে নিকটস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন বা এম্বাসিতে যোগাযোগ করা উচিত।
মারামারি, চুরি, মাদক, অবৈধ ব্যবসা, অবৈধ কাজ বা ভিসার নিয়ম ভঙ্গ থেকে দূরে থাকতে হবে।
কোনো কাগজে সাইন করার আগে বুঝে নিতে হবে।
সমস্যা হলে দালাল বা অপরিচিত ব্যক্তির কথা না শুনে কোম্পানি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশ দূতাবাসের পরামর্শ নিতে হবে।
পাসপোর্ট, ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট, আইডি কার্ড ও কন্ট্রাক্ট পেপার নিরাপদ জায়গায় রাখতে হবে।
এগুলোর ছবি বা স্ক্যান কপি মোবাইলে এবং পরিবারের কাছে রাখা ভালো।
অপরিচিত কারো কাছে পাসপোর্ট বা কাগজপত্র দেওয়া উচিত নয়।
চাকরির চুক্তিপত্রে বেতন, কাজের ধরন, কোম্পানি, সুবিধা ও নিয়ম লেখা থাকে।
কোনো সমস্যা হলে এই কাগজ প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগে।
তাই চুক্তিপত্রের কপি নিজের কাছে এবং পরিবারের কাছেও রাখা উচিত।
অসুস্থ হলে বিষয়টি লুকিয়ে না রেখে কোম্পানি বা সুপারভাইজারকে জানাতে হবে।
প্রয়োজনে অনুমোদিত হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে হবে।
নিজে নিজে ভুল ওষুধ খাওয়া বা কাজ চালিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
প্রবাসে অনেকেই ভালো পরামর্শ দেয়, আবার কেউ কেউ ভুল পথে নিতে পারে।
অবৈধ কাজ, দ্রুত টাকা আয়, জাল কাগজ বা অন্য কোম্পানিতে পালিয়ে যাওয়ার প্রলোভনে পড়া যাবে না।
যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাচাই করা জরুরি।
কোম্পানি পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী করতে হবে।
অনুমতি ছাড়া কোম্পানি পরিবর্তন বা পালিয়ে কাজ করা অবৈধ হতে পারে।
এতে ভিসা বাতিল, জরিমানা, জেল বা দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি থাকে।
ঝগড়া-বিবাদে জড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
কেউ খারাপ ব্যবহার করলে নিজে আইন হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।
প্রয়োজনে কোম্পানি, সুপারভাইজার, পুলিশ বা বাংলাদেশ দূতাবাসের সাহায্য নিতে হবে।
প্রবাসে বসে কোনো দেশ, ধর্ম, জাতি, কোম্পানি বা ব্যক্তিকে অপমান করে পোস্ট করা যাবে না।
অনেক দেশে অনলাইন পোস্টের জন্যও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তাই ফেসবুক, টিকটক বা ভিডিও কনটেন্ট করার সময় সতর্ক থাকা উচিত।
প্রবাসে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় ঋণ বা ধার নেওয়া উচিত নয়।
বেতন পাওয়ার আগেই অতিরিক্ত খরচ করলে পরে পরিবারে টাকা পাঠানো কঠিন হয়ে যায়।
শুরু থেকেই খরচের হিসাব রাখা ভালো।
ভদ্র আচরণ, আইন মানা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং দায়িত্বশীলভাবে কাজ করা নিজের দেশের সম্মান বাড়ায়।
প্রবাসে একজন কর্মীর আচরণ অনেক সময় পুরো বাংলাদেশের ভাবমূর্তির সাথে যুক্ত হয়ে যায়।
তাই সবসময় সচেতন ও সম্মানজনক আচরণ করা উচিত।
প্রথমে কোম্পানি বা সুপারভাইজারকে জানাতে হবে।
সমস্যা বড় হলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা নিকটস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন/এম্বাসিতে যোগাযোগ করতে হবে।
পাসপোর্ট, ভিসা, কন্ট্রাক্ট ও জরুরি নম্বর সবসময় সংরক্ষণ করে রাখা উচিত।
প্রবাসে কাজ করতে যাওয়ার আগে অনেক দেশে মেডিকেল ফিটনেস বাধ্যতামূলক। মেডিকেল রিপোর্টে Unfit হলে ভিসা, manpower বা job joining-এ সমস্যা হতে পারে। তাই অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে সঠিকভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।
চুক্তিপত্রে বেতন, কাজের ধরন, working hour, accommodation, food, overtime, leave, contract period লেখা থাকে। না বুঝে সাইন করলে পরে কম বেতন, অতিরিক্ত কাজ বা অন্য কাজে পাঠানোর মতো সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
মৌখিক কথার উপর নির্ভর না করে visa copy, offer letter, employment contract এবং recruiting agency/agent-এর লিখিত তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে। “গিয়ে ভালো হবে” টাইপ কথায় সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
ভিসা, টিকিট, manpower বা অন্যান্য কাজের জন্য টাকা দিলে অবশ্যই receipt, bank slip, mobile banking screenshot, লিখিত চুক্তি বা message proof সংরক্ষণ করতে হবে। ভবিষ্যতে সমস্যা হলে এগুলোই প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগে।
পরিবারের কাছে passport copy, visa copy, ticket, manpower/BMET copy, company name, destination address, agency contact, emergency contact এবং নিজের mobile/WhatsApp number রেখে যাওয়া উচিত।
প্রথমে sponsor/company representative-এর সাথে যোগাযোগ করুন, থাকার জায়গা নিশ্চিত করুন, passport/visa নিরাপদে রাখুন, local SIM বা internet ব্যবস্থা করুন এবং পরিবারের কাছে নিরাপদে পৌঁছানোর খবর দিন।
Passport আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। অনেক দেশে employer passport রাখতে চাইলেও নিজের copy, photo এবং digital scan অবশ্যই নিজের কাছে রাখতে হবে। Passport জমা দিলে receipt বা লিখিত proof নেওয়া ভালো।
দেশভেদে নিয়ম আলাদা। অনেক দেশে sponsor/company পরিবর্তনের জন্য সরকারি অনুমতি লাগে। অনুমতি ছাড়া কাজ পরিবর্তন করলে জরিমানা, detention, deport বা ভবিষ্যতে visa ban হতে পারে।
কোম্পানি, supervisor বা camp in-charge-কে জানাতে হবে। প্রয়োজন হলে নিকটস্থ clinic/hospital-এ যেতে হবে। গুরুতর অবস্থায় Bangladesh Embassy/High Commission বা পরিচিত বৈধ সহায়তা কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
Passport, ticket, visa copy, manpower/BMET copy, contract paper, emergency contact, কিছু নগদ টাকা, mobile charger, প্রয়োজনীয় medicine এবং pen hand carry-তে রাখা উচিত। এগুলো check-in bag-এ দেওয়া ঠিক না।
ধারালো বস্তু, বড় কাঁচি, knife, liquid বেশি পরিমাণে, lighter, power bank check-in bag-এ দেওয়া, explosive বা নিষিদ্ধ জিনিস বহন করা যাবে না। airline ও airport security rules আগে জেনে নেওয়া ভালো।
শান্ত থাকতে হবে। নিজের company/sponsor, agency, family এবং প্রয়োজনে embassy contact-এ দ্রুত জানাতে হবে। অপরিচিত কারো সাথে passport বা টাকা লেনদেন করা যাবে না।
Passport, Iqama/ID, work permit বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজ হারালে প্রথমে police report করতে হবে। এরপর Bangladesh Embassy/High Commission, company এবং agency-কে জানাতে হবে।
Passport, visa, ticket, BMET/manpower, contract, police clearance, medical report, company address, embassy contact এবং agency contact mobile gallery, Google Drive বা WhatsApp-এ save রাখা ভালো।
Airport বা বিদেশে অপরিচিত WiFi, fake link, OTP sharing, unknown app install করলে mobile banking, passport info বা personal data চুরি হতে পারে। OTP, password বা banking PIN কাউকে দেওয়া যাবে না।
- আমার Passport, Visa, Ticket ঠিক আছে কিনা কীভাবে মিলাবো?
- আমার BMET/Manpower হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবো?
- আমার Contract Paper-এ কী কী মিলিয়ে দেখব?
- Hand Carry Bag-এ কী কী রাখব?
- পরিবারের কাছে কী কী document copy রেখে যাব?
- Airport যাওয়ার আগে শেষবার কী কী check করব?
Our Latest News
প্রবাসের বিষয় গুলো এতটাই পরিবর্তনশীল যা ভাষায় প্রকাশযোগ্য না। তাই নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে লাইক, ফলো ও সাবস্ক্রাইব দিয়ে রাখুন যাতে রেগুলার আপডেট পেতে পারেন।