যুক্তরাজ্য (UK) ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট 🇬🇧
UK ভিসায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আর্থিক প্রস্তুতি ও দেশে ফিরে আসার প্রমাণ। আবেদনের আগে নিচের গাইড ভালোভাবে পড়ুন — সহজ ভাষায় সব বুঝিয়ে দেওয়া হলো।
Required Document List
- পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ সম্পন্ন) ও পূর্ববর্তী সকল ভিসার কপি।
- পুরাতন পাসপোর্ট (যদি থাকে)। হারিয়ে গেলে জিডি কপি অনুবাদসহ নোটারী করা হতে হবে।
- ছবি — UK ভিসা স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, সাম্প্রতিক।
- কভার লেটার — ভ্রমণের উদ্দেশ্য, তারিখ ও কে খরচ বহন করবে তার বিবরণসহ।
- সর্বশেষ ৬ মাসের সার্টিফায়েড ব্যাংক স্টেটম্যান্ট — ব্যাংকের সিল ও লেটারহেডসহ (নিচের আর্থিক গাইড দেখুন)।
- ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও পর্যাপ্ত তহবিলের প্রমাণ।
- সম্পদ মূল্যায়ন (Asset Valuation) — জমি, ফ্ল্যাট বা অন্যান্য সম্পদের প্রতিবেদন।
- কনফার্মড রিটার্ন এয়ার টিকেট বুকিং ও বিস্তারিত ট্রাভেল আইটেনারারি।
- হোটেল বুকিং বা থাকার প্রমাণ (Proof of Accommodation)।
- ইনভাইটেশন লেটার ও হোস্টের কাগজপত্র (আত্মীয়/বন্ধুর কাছে গেলে)।
- পেশাগত প্রমানপত্র (নিচের তালিকা অনুযায়ী দেখুন )।
- টিন (TIN) এবং ট্যাক্স রিটার্ন সার্টিফিকেট (দৃঢ়ভাবে সুপারিশকৃত)।
- ফ্যামিলি টাই প্রুফ (Family Tie Proof):
- ফ্যামিলি সার্টিফিকেট (Family Certificate)।
- ফ্যামিলি সিভিল আইডি — জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধন (Birth ID)।
- নিকাহনামা / ম্যারেজ সার্টিফিকেট (বিবাহিত হলে)।
- নাবালক সন্তানের ক্ষেত্রে জন্ম সনদ (বাংলা ও ইংলিশ) ও পিতা-মাতার সম্মতিপত্র।
- স্কুল-পড়ুয়া সন্তানের ক্ষেত্রে জন্ম সনদের সাথে স্কুল থেকে এনওসি (NOC) ও স্টুডেন্ট আইডি।
ভিসা ও প্রসেসিং ফি (সব মিলিয়ে)
৳৩৭,০০০
সরকারি ফি (৬ মাস — £135) + VFS ফি + Jakwan সার্ভিস চার্জসহ। প্রতি আবেদনকারীর জন্য আলাদা।পাউন্ডের বিনিময় হার অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে।
ডেলিভারির সময়
প্রায় ৩ সপ্তাহ
এন্ট্রি টাইপ
মাল্টিপল এন্ট্রি
মেয়াদ ও অবস্থান
৬ মাস (দীর্ঘমেয়াদি ২/৫/১০ বছরও আছে)
আবেদন যেভাবে হয়
UK ভিসা সম্পূর্ণ অনলাইনে GOV.UK মাধ্যমে হয়। এরপর ঢাকা, সিলেট বা চট্টগ্রামের VFS Global সেন্টারে বায়োমেট্রিক (ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি) দিতে হয়। Jakwan Travels আপনার সম্পূর্ণ ফাইল ও আর্থিক ডকুমেন্ট গুছিয়ে সঠিকভাবে আবেদন প্রস্তুত করে দেয়।
আসসালামু আলাইকুম!
UK ভিসা নিয়ে যেকোনো প্রশ্ন করুন — পরামর্শ সম্পূর্ণ ফ্রি। আমরা আছি আপনার সেবায়।
আপনাদের আস্থায়, আমরা কৃতজ্ঞ
পেশাগত প্রমাণপত্র (Profession Documents)
ব্যবসায় হলে:
- নবায়নকৃত ট্রেড লাইসেন্স (ইংরেজী অনুবাদ ও নোটারী)
- কোম্পানির অফিশিয়াল ভিজিটিং কার্ড
- কোম্পানির অফিশিয়াল লেটারহেড প্যাড
চাকুরীজীবী হলে:
- NOC/প্রত্যয়নপত্র (বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে)
- GO/প্রত্যয়নপত্র (সরকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে)
- অফিসিয়াল আইডিকার্ড (ID Card)
- বেতন সনদ ও বেতন প্রদানের প্রমানপত্র (Salary Slip)
- BMDC সনদ (ডাক্তার হলে) / বার কাউন্সিল সনদ (উকিল হলে)
- অবসর গ্রহণের অফিশিয়াল ডকুমেন্ট (অবসরপ্রাপ্ত হলে)
ছাত্র/ছাত্রী হলে:
- প্রাতিষ্ঠানিক স্টুডেন্ট আইডি কার্ড
- স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়নপত্র
- সর্বশেষ সেমিস্টার বা মাসের বেতন রশিদ ও রেজিঃ কার্ড
- জন্ম সনদ কপি (নাবালক বা শিশুর ক্ষেত্রে)
গৃহীনি হলে:
- স্বামীর পেশাগত প্রমাণপত্র ও আয়ের উৎস
- স্বামীর ব্যাংক স্টেটম্যান্ট ও ব্যাংক সলভেন্সি
- গৃহীনির জাতীয় পরিচয়পত্র / জন্ম সনদ / পাসপোর্ট
দিনমজুর / কৃষক হলে:
- কৃষক হলে ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত পেশার সনদ
- অন্যান্য দিনমজুর হলে চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত পেশার সনদ
আর্থিক প্রস্তুতি গাইড (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
UK ভিসায় ভিসা অফিসার প্রধানত দুটি বিষয় দেখেন — (১) আপনার ভ্রমণের খরচ চালানোর সামর্থ্য আছে কিনা, এবং (২) ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে আসার যথেষ্ট কারণ (financial tie) আছে কিনা। সহজ ভাষায় নিচে সব বুঝিয়ে দেওয়া হলো।
"Financial Tie" বা আর্থিক বন্ধন মানে কী?
Financial Tie মানে — দেশে আপনার এমন আর্থিক ভিত্তি আছে যা আপনাকে ফিরে আসতে বাধ্য করে। যেমন: চলমান চাকরি বা ব্যবসা, নিয়মিত আয়, জমি-ফ্ল্যাট বা সম্পদ, ব্যাংকে সঞ্চয়, এবং পরিবার-পরিজন। ভিসা অফিসার যত বেশি নিশ্চিত হবেন যে দেশে আপনার হারানোর মতো অনেক কিছু আছে, ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে।
যা করবেন (Do)
- সর্বশেষ ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটম্যান্ট দিন — ব্যাংকের সিল ও লেটারহেডসহ সার্টিফায়েড কপি।
- অ্যাকাউন্টে নিয়মিত ও স্বাভাবিক লেনদেন থাকুক — বেতন/ব্যবসার আয় ঢুকছে এমন প্যাটার্ন।
- স্থিতি কম হলে একাধিক অ্যাকাউন্ট (সেভিংস + কারেন্ট) একসাথে দেখান।
- সব কাগজে (ফরম, টিকেট, হোটেল, ব্যাংক) তথ্য একরকম রাখুন।
- চাকরি/ব্যবসা, সম্পদ ও পরিবারের প্রমাণ দিয়ে দেশে ফেরার কারণ স্পষ্ট করুন।
যা করবেন না (Don't)
- আবেদনের ঠিক আগে হঠাৎ বড় অঙ্কের টাকা জমা দেবেন না — এটি সন্দেহ তৈরি করে ও refusal-এর বড় কারণ।
- ধার করা বা অন্যের কাছ থেকে এক দিনের জন্য নেওয়া টাকা দেখাবেন না।
- লেনদেনে লম্বা গ্যাপ বা অস্বাভাবিক ওঠানামা রাখবেন না।
- কাগজে ভুল বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দেবেন না — ছোট ভুলও আবেদন বাতিল করতে পারে।
- নকল বা এডিট করা স্টেটম্যান্ট কখনোই নয় — ধরা পড়লে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।