
আব্দুল ওয়াদুদ রিফাত
Abdul Wadud Rifat · দাপ্তরিক নাম (NID): RIFAT CHOKDER
কাঠমিস্ত্রি বাবার ছেলে, গ্রামের এক ছোট দোকানে ২০ টাকার বিক্রি দিয়ে যার ব্যবসার শুরু। নিজে প্রতারণার শিকার হয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম — এই লাইনে এলে সত্য প্রতিষ্ঠা করে ছাড়ব। সেই প্রতিজ্ঞা থেকেই আজকের জাকওয়ান ট্রাভেলস।
আমার গল্প
সলিমাবাদ গ্রাম থেকে মতিঝিলের চাকরি
আমি আব্দুল ওয়াদুদ রিফাত, জাকওয়ান ট্রাভেলস-এর বর্তমান কর্ণধার। আমার জন্ম মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগিবাড়ী উপজেলার আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের সলিমাবাদ গ্রামে। বাবা ছিলেন কাঠমিস্ত্রি, মা গৃহিণী। মাধ্যমিক সম্পন্ন হয় আব্দুল্লাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। পরবর্তীতে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করি মিরকাদিম হাজী আমজাদ আলী কলেজ থেকে। কলেজের গণ্ডি মুন্সীগঞ্জ জেলাতে থাকলেও ইচ্ছা ছিল ঢাকায় গিয়ে গ্র্যাজুয়েশন এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করা। ইচ্ছেটা সহজেই মিলে যায়।
ইন্টারের পরীক্ষার পরে আমি তাবলীগে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফিরে, ইন্টারের রেজাল্ট পাওয়ার আগে, এক জোহরের নামাজের পর আমাদের মহল্লার মসজিদে তাবলীগের কিতাব থেকে তালিম করছিলাম। সে সময় উপস্থিত ছিলেন আমাদের গ্রামের শহিদুজ্জামান বেবিন বেপারী, যিনি মাইক্রোওয়ে সিস্টেমস-এর এমডি ও ফাউন্ডার। তিনি আমার তালিম শুনে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবকে বললেন, “ছেলেটা তো স্পষ্ট ও সুন্দর করে তালিম করে, ও কি আমার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবে?” ইমাম সাহেব আমাকে প্রস্তাব দেওয়ার সাথে সাথে আমি রাজি হয়ে যাই।
ইন্টারমিডিয়েট পাস করার ১ মাসের মধ্যেই চাকরি ঠিক হয় ঢাকার মতিঝিলের একটি কম্পিউটার প্রোডাক্টস কর্পোরেট প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানে — নাম ছিল মাইক্রোওয়ে সিস্টেমস।
চাকরি, বিবিএ আর টিউশনি
সেখানে চাকরি চলাকালীন ঢাকা কলেজের ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টে বিবিএ-তে ভর্তি হই। যেহেতু বিবিএ পড়ছি, তাই প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন হয়। এক বড় ভাইয়ের সুবাদে একটি টিউশনি করারও সুযোগ হয়। চাকরির সময় ছিল সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। এরপর টিউশনি করাতাম মতিঝিল এজিবি কলোনিতে।
স্যারের দেওয়া টাকায় কেনা ল্যাপটপ, আর শরীরের সীমা
চাকরিতে হঠাৎ আমার দায়িত্ব পড়ল ওয়েবসাইটের বিষয়টি ডিল করার। সেখানে ওয়েবসাইট প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের মালিকের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই সুবাদে তিনি তাঁর বড় ভাই গালিব আনোয়ার স্যার-এর সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন, যিনি ছিলেন একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার — যাঁর হাত ধরে বাংলাদেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকার সফটওয়্যার তৈরি হয়েছে। তিনি আমাকে তাঁর সাথে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট শিখতে ও করতে অফার করেন।
ঐ সময় আমার ব্যক্তিগত ল্যাপটপ ছিল না। তাই গালিব আনোয়ার স্যার নিজে আমাকে ২০,০০০ টাকা দেন, সাথে ১১,০০০ টাকা যোগ করে আমি একটি ল্যাপটপ কিনি। শুরু হলো এক নতুন যাত্রা — সকাল ৯টা থেকে ৬টা চাকরি, এরপর টিউশনি, এসে পড়াশোনা, রাত ১১টা থেকে ১–২টা পর্যন্ত সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে সময় দেওয়া; একই সাথে প্রাইভেট পড়া, অফিস থেকে সপ্তাহে ২ দিন ক্লাস করার সুযোগ ছিল সেটাও করা, আবার একটি পত্রিকায় সাংবাদিকতা, বিভিন্ন সংগঠনে অংশগ্রহণ।
সব মিলিয়ে শরীর আর নিতে পারছিল না। বিবিএ ৩য় বর্ষে হঠাৎ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ি। এরই মধ্যে বিয়ে করি। অবশেষে বিবিএ ৪র্থ বর্ষের ফাইনাল লিখিত পরীক্ষা শেষ করে গ্রামে চলে আসি — কিছু একটা করার জন্য।
সুদের কারবারে থাকিনি
গ্রামে এসে চাকরি নিলাম পুবালী কোল্ড স্টোরে অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার হিসেবে। চাকরি চলাকালীন বুঝতে পারি, কোল্ড স্টোর হলো অঘোষিত সুদের কারবার। তাই ৩ মাস না যেতেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিই। শুরু হলো ১–২ মাসের এক বেকার জীবন। সিদ্ধান্ত নিই টিউশনি করার।
একটা ল্যাপটপ আর দাদির টাকায় কেনা প্রিন্টার
টিউশনি করাতে গিয়ে এক পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি হয়। তাঁদের সহায়তায় মুন্সীগঞ্জ কোর্টের সামনে শিশু পার্ক মার্কেটে একটি ছোট দোকান দিয়ে শুরু করি। চালান শুধু আমার ঐ ল্যাপটপ। দাদির কাছ থেকে টাকা নিয়ে কিনলাম একটি কালার প্রিন্টার। আর যাঁর দোকান, তাঁর সাথে চুক্তি হয় — ভাড়া ১,২০০ টাকা, কিন্তু সন্ধ্যায় তিনি নিজেও পাশে বসবেন।
চলছিল ভালোই, পরিচিতি পাচ্ছিলাম বিভিন্ন উকিল ও কোর্টের সকল স্তরের লোকের কাছে। হঠাৎ নোটিশ এলো — এই মার্কেট ভাঙা হবে। ৮ মাস পেরিয়ে একটি ভালো অবস্থানে যেতে না যেতেই নোটিশ দেখে মাথায় বাজ পড়ল।
প্রথম দিনের বিক্রি — মাত্র ২০ টাকা
এখন কী করি! গ্রামের দিকে কিছু খুঁজতে খুঁজতে বন্ধু সঞ্জয় দেবনাথ-এর পরামর্শে বেতকা চৌরাস্তার শিকদার মার্কেটে একটি দোকান ভাড়া নিলাম, ভাড়া ৬,০০০ টাকা। নাম দিলাম জাকওয়ান কম্পিউটার্স ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড লাইব্রেরি। প্রথম দিন বিক্রি হলো মাত্র ২০ টাকা। আমার দোকানের পজিশনও ছিল ভেতরের দিকে, এলাকায় নতুন মুখ — সব মিলিয়ে ৬ মাসে লাভের কথা তো দূরে থাক, উল্টো ভাড়া খেলাপি হয়ে পড়ি।
এই দোকানের অ্যাডভান্স আর মালামাল তোলার জন্য শ্বশুরবাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। দোকানের ফার্নিচার আর কিছু মালামাল কেনার জন্য ধার দিয়েছিলেন মাইক্রোওয়ে সিস্টেমস-এ আমার সহকর্মী, সেখানকার সাবেক অ্যাকাউন্ট্যান্ট নাসির মামা এবং গালিব আনোয়ার স্যার। দোকান ও পরে ট্রেনিং সেন্টারের মেশিনারিজ বাকিতে দিয়ে সাপোর্ট দিয়েছিলেন ফারুক ভাই। আর দোকানের যত ফার্নিচার — সব আমার বাবা নিজ হাতে বানিয়ে দিয়েছেন। বাবা বলেছিলেন, “বাবা রে, সেই সামর্থ্য তো নাই যে আমি তোমারে টাকা দিমু; আমি গায়ে খাইটা চেষ্টা করতেছি।” — এটাই ছিল বাবার দোয়া।
কোনো দিশা না পেয়ে স্ত্রীর হাতের সোনার আংটি বিক্রি করে ৬ মাসের বকেয়া দোকান ভাড়া পরিশোধ করি। আমাদের সেবা তখন ছিল: অনলাইনের যাবতীয় সেবা, কম্পোজ, ইন্ডিয়ান ভিসা আবেদন, স্টেশনারি বিক্রি, দলিল লিখন, কম্পিউটার ট্রেনিং সহ বেশ কিছু সেবা ও পণ্য বিক্রি। ২০১৮ সাল থেকে ছোট পরিসরে ট্রাভেল এজেন্সি সংক্রান্ত কাজও শুরু করি — ইন্ডিয়ান ভিসা, বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, পাসপোর্ট সহ বেশ কিছু সেবা — আর দোকানের ব্যানারেও সেগুলো যুক্ত করি।
আস্তে আস্তে দিন যাচ্ছিল আর পরিচিতির সংখ্যা বাড়ছিল। বেশ কিছু মানুষের প্রিয়জন হয়ে উঠি। বেতকা, পাইকপাড়া আর বেতকা ব্রিজের পরের গ্রামগুলোর মানুষ আমাকে দিন দিন নিজেদের আপন মানুষ ভাবতে থাকে, বিশ্বাস করতে থাকে। শুরুর দিকে নানা পরামর্শ দিয়ে পাশে ছিলেন মানিক দাদা আর গালিব আনোয়ার স্যার।
প্রো-ভার্চুয়াল আইটি আর ১,২৫,০০০ টাকার লস
পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী আমার শ্রদ্ধেয় গালিব আনোয়ার স্যার-কে পার্টনার হিসেবে নিয়ে শুরু করলাম একটি আলাদা প্রফেশনাল কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার — নাম দিলাম প্রো-ভার্চুয়াল আইটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার। স্যার যুক্ত ছিলেন দূর থেকে, আর সশরীরে সবকিছু দেখতাম আমি।
প্রথম ৫–৬ মাস মোটামুটি লসের মুখ না দেখলেও পরে দোকান মালিকের চাপাচাপিতে স্থান পরিবর্তন করতে হয়। স্থান পরিবর্তন করে নতুন ডেকোরেশন ও ৭টি কম্পিউটার সহ পুরোপুরি লসে পড়ে যাই। আমাদের দুজনের মিলিয়ে আনুমানিক ১,২৫,০০০ টাকা লস হয় — সাথে আমার দীর্ঘ শ্রম আর সময়। ট্রেনিংয়ের অংশটা বন্ধ হয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি থেমে থাকেনি — প্রো-ভার্চুয়াল আইটি সিকিউরিটি সিস্টেমস-এর অধীনে এখন আমরা সিসি ক্যামেরা ও সিকিউরিটি সিস্টেম বিক্রি করছি।
ব্যানারের কোণে ছোট্ট করে লেখা “বিমান টিকেট”
কিন্তু আমার টেকনোলজি সার্ভিসের ব্যবসা ভালোই চলছিল। দোকানের পেছনের ব্যানারে ছোট করে লেখা ছিল “বিমান টিকেট, ট্রেন টিকেট, বাস টিকেট”। এই লেখা দেখেই এমন একজন এলেন, যাঁর কারণে আমার ট্রাভেল লাইনে পা দেওয়া — তাবলীগের সাথী, নারায়ণগঞ্জের শামীম ভাই। শামীম ভাই ছিলেন বেতকা এলাকার জামাই; শ্বশুরবাড়ি আসা-যাওয়ার সূত্রে আমার সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। একদিন তিনি খেয়াল করলেন, আমার পেছনের ব্যানারে এক জায়গায় ছোট করে লেখা “বিমান টিকেট”। ভাই বললেন, “রিফাত ভাই, আমার সিঙ্গাপুর যাওয়ার ম্যানপাওয়ার কার্ড ও বিমান টিকেট আপনি করে দেবেন।” সালটি ছিল ২০২০, বাংলাদেশে প্রথম করোনা লকডাউনের ঠিক আগমুহূর্ত।
তাঁর অনুরোধে চেষ্টা করে পরিচিত এক এজেন্সির মালিকের সাথে যোগাযোগ করলাম — যেহেতু তিনি কোনো না কোনোভাবে আমার পরিচিত। তিনি আমাকে যে সময় দিলেন, তা হলো লকডাউনের দুই দিন আগে ম্যানপাওয়ার, আর লকডাউনের আগের দিন ফ্লাইট। কিন্তু দুই দিন আগে ম্যানপাওয়ার কার্ড দিতে তিনি অক্ষমতা জানালেন — বললেন, ম্যানপাওয়ার কার্ড দেবেন ফ্লাইটের দিনই। কোনো উপায় না পেয়ে, যাত্রীর আবার কী বিপদ হয় তা ভেবে, যাত্রীর সাথে আমিও গেলাম। আল্লাহ সহজ করেছিলেন — বোরাক টাওয়ার থেকে ম্যানপাওয়ারটা পাওয়া গিয়েছিল। পরে আরেকজনের টিকেট ও ম্যানপাওয়ারও ঐখান থেকেই ঠিকঠাক হলো। ভাবলাম, খারাপ কী — চলুক।
পরিচিত এজেন্সির কাছে একের পর এক প্রতারণা
প্রথম দুজনের কাজ ঠিকঠাক হওয়ায় সেই পরিচিত এজেন্সির মালিকের ওপর ভরসা করেছিলাম। কিন্তু এরপর যা ঘটল —
ফ্লাইটের দিনই “ক্যানসেল”
মালখানগর থেকে এক ভাই আসতেন; তাঁর ভাইয়ের টিকেট আমাকে করতে বললেন। আমি সেই এজেন্সি মালিকের শরণাপন্ন হলাম। তিনি টিকেট দিলেন। যাত্রীর যেদিন ফ্লাইট, সেদিন আমাকে ফোনে বললেন — ফ্লাইট ক্যানসেল হয়ে গেছে। যাত্রীদের তখন আরটি-পিসিআর টেস্ট করানো বাবদ ১০–১২ হাজার টাকা খরচ হয়ে যেত, কারণ যেতে হতো প্রাইভেট কারে। তাছাড়া ঐ যাত্রী ছিলেন একজন বাংলাদেশ-টু-ফিলিপাইন কাপড় ব্যবসায়ী, তাঁর সাথে শিপমেন্ট ছিল। এই আচরণে তিনি দারুণ কষ্ট পেলেন। লোকটা কয়েকবার আমার দোকান-কাম-অফিসে এসে বসে রইলেন। অনেক চেষ্টা-মেহনত করে, বারবার ঐ এজেন্সির অফিসে গিয়ে, তবুও পরে যাত্রীকে অন্য টিকেট দেওয়া হলো।
চাচার টিকেট — ফ্লাইটের আগের দিন বাতিল
এরপর আমার এক চাচা আমার কাছ থেকে টিকেট নিলেন। আমি ঐ এজেন্সি মালিকের কাছ থেকেই নিলাম। তাঁর সাথেও একই বিষয় — ফ্লাইটের আগের দিন বলছেন, টিকেট ক্যানসেল। বুঝুন, যে যাত্রী মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছেন আজ বা কাল ফ্লাইট, তাঁর ফ্লাইট মিস বা ক্যানসেল হলে কতটুকু বিড়ম্বনা!
সৌদির দুই ভাই — টিকেটই করা হয়নি
পরবর্তীতে আমার দোকানের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে দুই ভাই এলেন, সৌদি যাবেন। সেই এজেন্সি মালিকের সাথেই কথা বলে টিকেট কনফার্ম করলাম, অনলাইনে চেকও করলাম। মূল্য ছিল সম্ভবত টিকেট প্রতি ৭২ হাজার টাকা। এর মধ্যে একজন আমার এলাকার। তাঁদের ফ্লাইট সকালে। তাঁরা ফোন দিয়ে বলছেন, “ভাই, আমাদের টিকেট করেন নাই! এখন তো আমাদের বোর্ডিং দিচ্ছে না।” বললাম, এমন তো হওয়ার কথা না। এজেন্সি মালিককে ফোন দিয়েও তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান পেলাম না। শিকার হলাম আরেক নতুন অশান্তির।
যাত্রী দুজন বিকেলে ফেরত এলেন — সাথে তাঁদের পরিবার ও গ্রামের মেম্বার। যাত্রী আমাকে টাকা পরিশোধ করেছেন, আমি করেছি ঐ এজেন্সি মালিককে — কিন্তু তিনি বিন্দাস। আমি চিন্তায় শেষ, তিনি নরমাল। বলছেন, “এমন হতেই পারে।” বাসা থেকেও প্রেশার দিল — এই কাজ, এই রকম ব্যবসার দরকার নেই।
কিন্তু কেন যেন এই কাজ আমার পিছু ছাড়ছিল না।
কুয়েত — ভিসার মেয়াদ শেষের দিনে ফ্লাইট
আরেকজন পরিচিত ভাই এলেন — তাঁর কুয়েত যাওয়ার কোয়ারেন্টাইন হোটেল ও টিকেট করে দিতে হবে। এই লাইনে যেহেতু আমার তেমন পরিচিত কেউ নেই, তাই বাধ্য হয়েই আবার সেই এজেন্সি মালিকের কাছেই যেতে হলো। তিনি করে দিলেন এমন এক ডেটে, যেদিন ঐ লোকের ভিসার মেয়াদ শেষ হবে। তখন একটা ভয় ছিল — কারো যদি আরটি-পিসিআর টেস্টে করোনা পজিটিভ আসে, তবে ওষুধ সেবন করে ২য় বারে হয়তো নেগেটিভ আসবে। কিন্তু যাত্রীর সেই সময় ছিল না। তাই যাত্রীর স্ত্রী সকাল-সন্ধ্যা-রাত আমাকে হাজারবার ফোন দিয়ে এই কথাই শোনাচ্ছেন — যদি যাত্রী যেতে না পারেন, তবে যাবতীয় ভিসা-টিকেটের দায়ভার আমার। যাত্রীর ফ্লাইটের আগ ও পর মুহূর্ত পর্যন্ত সেই একই অভিযোগে আমার রাত-দিন এক হয়ে গেল। অবশেষে এই যাত্রীও গেলেন।
এরপর দুজন যাত্রীর সাথে ভালো ডিল হলো — পুনরায় বিশ্বাস ফিরে পেলাম। ঐ যে বললাম, তাঁর কাছে বারবার ফিরে যাওয়ার অর্থ একটাই — তিনি পরিচিত।
ডেট চেঞ্জের নামে পুরনো টিকেট এডিট
এরপর এলো আমার এক স্টুডেন্টের মামার টিকেটের ডেট চেঞ্জ। তিনি বললেন করে দেবেন, একটা অ্যামাউন্ট বললেন। আমার প্রফিট যোগ করে বললে যাত্রীপক্ষ রাজি হলো। সেই এজেন্সি পরদিন টিকেট দেবে বলে “দিচ্ছি, দিচ্ছি” করে আমাকে পূর্বের টিকেটের ডেট এডিট করে দিল। আমি অনলাইনে চেক করে দেখি, ডেট আসলে চেঞ্জ হয়নি। যে যাত্রীর ডেট চেঞ্জ, তিনি অলরেডি নো-শো-তে পড়ে ডেট চেঞ্জ করতে এসেছেন। তিনি এখন দুশ্চিন্তায় বাঁচেন না, আমাকেও ঘুমাতে দেন না। আর এদিকে এজেন্সি মালিক ফোন রিসিভ করেন না। সব মিলিয়ে পড়লাম মহা মুশকিলে।
পরে তাঁর ঠিকানা নিয়ে পরপর দুই দিন তাঁর বাড়িতে যাই। তিনি উল্টো বলেন, “আপনারা আমার বাড়িতে আসছেন! আপনার ডেটও চেঞ্জ হবে না, টাকা নিয়ে যান। যা করবেন করেন।” পুরো মুহূর্তটা ছিল এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। আমার স্টুডেন্টের বাবাকে নিয়ে একদিন সকাল ৫টায়ও তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলাম। অবশেষে যাত্রী সরাসরি এয়ারপোর্টে ইউএস-বাংলার কাউন্টার থেকে ইনস্ট্যান্ট ডেট চেঞ্জ করে যান। এরপর মোটামুটি এই প্রতারক লোকের সাথে যোগাযোগ ছেড়ে দিলাম।
এক টেবিলে মুখোমুখি — জিতে গেল সত্য
শেষ ঘটনা — দুজনের দাবি, সত্য একটাই
হঠাৎ একদিন এক ভদ্রলোক এলেন তাঁর টিকেটের ডেট চেঞ্জ নিয়ে। অনেক দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও, আর কাউকে চিনি না বিধায়, আবারও সেই এজেন্সি মালিককে বললাম — পারবেন কিনা। তিনি পারবেন জানালেন, সাথে প্রাইস। দুপুর ২টার মধ্যে দেওয়ার কথা বলে তাঁর ফোন অফ, হোয়াটসঅ্যাপ অফ। পরে আর কোনো দিক না পেয়ে আমাদের কমিউনিটি গ্রুপ থেকে ডেট চেঞ্জ নিলাম।
যাঁর কাছ থেকে নিয়েছি, তাঁকে পেমেন্ট করব — এমন সময় সেই এজেন্সি মালিকের ফোন: “কী রিফাত সাহেব, টিকেট পেয়েছেন?” আমি তো শুনে অবাক! বললাম, “না ভাই, আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়েছি, আমি কাজটি করাব না।” বললেন, “ওকে, না করে দিলাম।” কয়েক মিনিট পর আবার ফোন: “আমার লোক তো কাজটি করে দিয়েছে, টাকা দেন।” আমি তো কাজটি করিয়েছি আরেক জায়গা থেকে — তাঁকে কোথা থেকে টাকা দেব! নতুন এক মহা মুশকিলে পড়লাম। বললাম, “এখন কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।” তিনি বললেন, “আপনার যাত্রীর ব্যাপারে আমাকে আর ফোন দেবেন না — আপনার যাত্রী যেতে পারুক বা না পারুক।”
পড়ে গেলাম মহা কনফিউশনে। পরে যিনি আমার টিকেটের ডেট চেঞ্জ করেছিলেন, তাঁকে আর টাকা দিলাম না। যাত্রী এর আগে এক জায়গায় ডেট চেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছিলেন — অনেক কষ্টে বুঝিয়ে তাঁকে সেখানেই পাঠালাম। এরপর যাত্রী যেই ডেটে যাবেন, তার দুই দিন আগে সেই এজেন্সি মালিক ফোন করে বলছেন, “রিফাত ভাই, আপনার যাত্রীর নাম্বার দেন।” বললাম, কেন? বলছেন, “আপনার যাত্রীর ঐ টিকেটটি আমি ক্লাস লোয়ার করেছি। তাই আমার হয়ে যে কাজটি করে দিয়েছে, তাকে টাকা দিতে হবে। নয়তো যাত্রী যদি ফ্লাই করতে না পারে, আমার কোনো দোষ নাই।” আমি বললাম, “ভাই, আপনি অলরেডি আমাকে নানান সমস্যায় ফেলেছেন, এখন আবার কেন নতুন করে সমস্যা করছেন?” বলছেন, “আপনি নাম্বার না দিলে আমি নাম্বার পাব না ভেবেছেন?”
এরপর তিনি তাঁর কাছে দেওয়া পাসপোর্ট থেকে যাত্রীর নাম্বার কালেক্ট করে যাত্রীর বাবা-মাকে সকাল-বিকাল হয়রানি ও হুমকি দেওয়া শুরু করলেন। এদিকে যাত্রীর পরিবার আমাকে ফোন দিচ্ছে — কোনো দিশা পাচ্ছিলাম না। এক ভাইয়ের পরামর্শে ঐ ভাইকে নিয়ে গেলাম যাত্রীর বাসায়। সেখান থেকে সেই এজেন্সি মালিককে ফোন দিলাম — তিনি একই কথা বলছেন। বললাম, “ভাই, যদি টিকেটের ডেট চেঞ্জ আপনি করে থাকেন, তবে আপনিই টিকেটের টাকা প্রাপ্য। যেহেতু যাত্রী বলছেন অন্য জায়গা থেকে ডেট চেঞ্জ করেছেন, তবে এক কাজ করেন — আপনি আর যিনি টিকেটের ডেট চেঞ্জ করেছেন, এক টেবিলে বসেন। এখানেই প্রমাণ দিয়ে সমাধান হবে।”
তিনি রাজি হলেন। পরের দিন আমরা এলাকার ৩–৪ জনকে নিয়ে গেলাম সেই অফিসে। সেখানে তাঁকে মুখোমুখি করলাম সেই ভদ্রলোকের। সবাই অবাক হয়ে জানলেন — এজেন্সি মালিক দীর্ঘ ১৪ বছর এই অফিসেই কাজ করেছেন; অর্থাৎ ইনি তাঁর উস্তাদ। উস্তাদ তাঁর মাইর দেখালেন শেষ রাতে। যে টিকেট মডিফাইয়ে গেলে ৩টা আলাদা আলাদা ডেট দেখাত, সেই ব্যক্তি ল্যাপটপ ঘুরিয়ে দেখালেন — এখন শুধু ১টা ডেট। আশ্চর্যের বিষয়, কিছুক্ষণ আগেও আমরা মডিফাইয়ে চেক করে ফ্লাইটের ২টা ডেট দেখছিলাম। জিতে গেল সত্য, হেরে গেল মিথ্যা।
এরপর থেকে আর কোনোদিন তাঁর সাথে ব্যবসায়িক লেনদেনে যাইনি। কিন্তু তাঁকে একটি কথা বলে রেখেছিলাম — “যদি আমি ট্রাভেল এজেন্সি লাইনে আসি, তবে সত্য প্রতিষ্ঠা করে ছাড়ব।” এই কথা বারবার আমার মাথায় বাজে।
নিজের পথ নিজেই খুঁজে নেওয়া
পরে সিদ্ধান্ত নিলাম — আমাকে উদ্ধার করতেই হবে: কী করে এয়ার টিকেট করা যায়, ম্যানপাওয়ার কীভাবে, কোথা থেকে করে, ডেট চেঞ্জের বাটপারি ছাড়া করার উপায় কী, টুরিস্ট ভিসা কীভাবে করে, কোথা থেকে করা যায়। পরিচিত ভাই-ব্রাদারের কাছ থেকে জানার-বোঝার চেষ্টা করলাম; কেউ তাঁর ব্যবসায়িক গোমর কোনোমতেই বলতে রাজি না, ইনিয়ে-বিনিয়ে কথা কাটিয়ে যান।
এজন্য এক সপ্তাহের একটি ঢাকা ভিজিটের প্ল্যান করলাম। লিস্ট করে সেখানকার বড় বড় পরিচিত কিছু এজেন্সির সাথে দেখা করে কথা বললাম। প্ল্যান শেয়ার করা হলো। কিছু সম্ভাবনার দুয়ার খুলল, কেউ কেউ ফেভারও করলেন। আস্তে আস্তে সন্ধান পেলাম এক-একটি সেবা বিশ্বস্তভাবে প্রদান করার।
অনেক কষ্ট করে মূল আয়াটা (IATA) লাইসেন্সধারী এজেন্সি থেকে, শুধু ট্রেড লাইসেন্স আর বাকি ডকুমেন্ট দেখিয়ে, কোনো ক্ষেত্রে বাই রেফারেন্সে, সাব-আইডি নিলাম। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত টিকেট নিজের আইডি থেকেই করছি, আর বিভিন্ন আইডিও বাড়ছে। আস্তে আস্তে সৌদি, কুয়েতের ভিসা প্রসেসের বিষয়টিও আয়ত্ত করলাম। ধীরে ধীরে প্রচার-প্রসার ও সেল বাড়তে লাগল।
একসময় ভাবতাম, মাসে ৫–৬টা টিকেট হলেও অনেক। আলহামদুলিল্লাহ, এখন দিনে গড়ে ৫–১০টা টিকেট করছি, সাথে রেগুলার টুরিস্ট ভিসা, ভিসা প্রসেস সহ ট্রাভেল এজেন্সি লাইনের অনেক কিছু। নিজে আরও দক্ষ হওয়ার জন্য জিডিএস ও ভিসা প্রসেস কোর্সও করলাম; সেখানেও এক স্ট্রং কমিউনিটির সাথে সুপরিচিত হলাম। নিজের অবস্থান শক্ত করার জন্য সিভিল এভিয়েশন লাইসেন্সের আবেদন করে লাইসেন্স নিলাম — সেটা করতেও বহু কাঠখড় পোড়াতে হলো। খুবই ভাগ্যক্রমে কম খরচেই নিজস্ব টিকেটিং সাইট নিলাম। এখন আমি একটি পূর্ণাঙ্গ ও সরকার অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির কর্ণধার।
সৎ মানুষদের মাঝেও এমন হয়েছে এবং হয় — অনেকেই হঠাৎ কথা দিয়ে কাজ ঠিকমতো দিতে চান না। তখন এমনও হয়েছে, কয়েকবার নিজে জরিমানা দিয়ে কাজটি সময়মতো ও ঠিকমতো করে দিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, বহু মানুষের ভালোবাসার পাশাপাশি দোয়াও পেয়েছি।
কৃতজ্ঞতা
এই পথচলায় আমি একা ছিলাম না। যাঁদের ছাড়া আজকের জাকওয়ান ট্রাভেলস হতো না —
আমার বাবা
দোকানের যত ফার্নিচার ছিল বা আছে — সব আমার বাবা নিজ হাতে বানিয়ে দিয়েছেন। বাবা বলেছিলেন, “বাবা রে, সেই সামর্থ্য তো নাই যে আমি তোমারে টাকা দিমু; আমি গায়ে খাইটা চেষ্টা করতেছি।” — এটাই আমার বাবার দোয়া।
শ্রদ্ধেয় মা ও আমার স্ত্রী
পুরো চলার পথে পরিবারের কোনো বাড়তি টেনশন আমাকে নিতে হয়নি। মা ও স্ত্রী কখনো পারিবারিক চাপ দেননি, সবসময় আমাকে নির্ভার রেখেছেন। স্ত্রীর হাতের আংটিতেই শোধ হয়েছিল দোকানের প্রথম বকেয়া ভাড়া।
দুই ভাই — রাহাত ও আবিদ
দুজনই অনেক ভালো; কখনো এমন কিছু করেনি যাতে পরিবারে কোনো বিশৃঙ্খলা হয়। বরং দুজনই জাকওয়ানে কাজ করেছে — এর উন্নতিতে ওদেরও বড় অংশ আছে।
ছোট ভাই আবিদ
টিমে অনেক সময় দিয়েছে। করোনাকালে যখন দোকানপাট বন্ধ, তখনও নিজে ঝুঁকি নিয়ে দোকান খুলে প্রতিদিন টুকটাক বিক্রি করত। মেশিনারিজ নিজেই ঠিক করে দিত, তাই টেকনিশিয়ান লাগত কম। এর জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
আহসানউল্লাহ মামা
ছোটবেলা থেকেই আমার পড়াশোনার পেছনে অনেক অর্থ ব্যয় করেছেন।
পড়াশোনায় যাঁরা পাশে ছিলেন
শহিদুজ্জামান বেবিন বেপারী স্যার — মাইক্রোওয়ে সিস্টেমস-এর কর্ণধার, চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন।
সোহেল ভাই — আমার কাজিন, মাইক্রোওয়ে-তে আইডিবি ভবনের দায়িত্বে ছিলেন। পরীক্ষার ফি লাগলে সাহায্য করতেন; একটা অ্যামাউন্ট কখনো ফেরতও নেননি।
বন্ধুরা
সবসময় শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে সাহস দিয়েছে শিপন, রবিন, শরিফুল, সাদ্দাম ও মুর্শেদ। আর পরামর্শ নিতাম দুই বন্ধু শরিফুল ও সোয়াইব-এর কাছ থেকে।
শ্বশুরবাড়ি
মুন্সীগঞ্জের দোকান ভাঙার পর বেতকায় নতুন দোকানের অ্যাডভান্স আর মালামাল তোলার জন্য ১ লাখ টাকা দিয়েছিলেন।
নাসির মামা ও গালিব আনোয়ার স্যার
দোকানের ফার্নিচার ও কিছু মালামাল কেনার জন্য ধার দিয়েছিলেন। নাসির মামা — মাইক্রোওয়ে সিস্টেমস-এ আমার সহকর্মী, সেখানকার সাবেক অ্যাকাউন্ট্যান্ট। আর গালিব স্যার — ল্যাপটপ থেকে পার্টনারশিপ, সবখানে পাশে ছিলেন।
মানিক দাদা ও গালিব আনোয়ার স্যার
শুরুর দিকে নানা পরামর্শ দিয়ে সবসময় সাহায্য করেছেন।
ফারুক ভাই
আমার কাজিন, মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের একটি বড় কম্পিউটারের দোকানে চাকরি করতেন। পড়াশোনার সময়ও সাহায্য করেছেন। পরে বেতকার দোকান ও ট্রেনিং সেন্টার শুরুর সময় মেশিনারিজ বাকিতে দিয়ে সাপোর্ট দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, “তোমার যখন যেভাবে সুবিধা হয়, আমাকে টাকা দিও।” তাঁর ২২ হাজার টাকা আমি মাসে ৫০০ টাকা করে শোধ করেছি। এটা ভোলার মতো নয় — আল্লাহ তাঁর মঙ্গল করুন।
যাঁরা দরজা খুলে দিয়েছেন
শহিদুজ্জামান বেবিন বেপারী — প্রথম চাকরি। সঞ্জয় দেবনাথ — বেতকায় দোকান নেওয়ার পরামর্শ। শামীম ভাই — যাঁর হাত ধরে ট্রাভেল লাইনে প্রথম পা।
আমাদের টিম — শুরুর দিনের সাথীরা
শুরুর দিকে যাঁরা মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছেন, দোকানের উন্নতির জন্য খেটেছেন — সবাইকে ধন্যবাদ। বিশেষ করে:
তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য।
এছাড়া ব্যবসায়িক জীবনে অনেক শুভানুধ্যায়ীকে পেয়েছি, অনেকভাবে। সবার নাম হয়তো এখানে নিতে পারলাম না — কিন্তু তাঁদের অবদানও ভোলার মতো নয়। সবার জন্য দোয়া ও কৃতজ্ঞতা।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
Master of Business Administration (MBA)
Dhaka College, Dhaka · University of Dhaka
Management · CGPA 2.75 (out of 4.00)
Bachelor of Business Administration (BBA)
Dhaka College, Dhaka · University of Dhaka
Management · CGPA 3.09 (out of 4.00)
HSC — Business Management Technology (BMT)
Munshiganj Engineering College, Munshiganj · BTEB
GPA 5.00 (out of 5.00)
Higher Secondary Certificate (HSC)
Mirkadim Haji Amjad Ali Degree College, Munshiganj · Dhaka Board
Business Studies · GPA 4.50 (out of 5.00)
Secondary School Certificate (SSC)
Abdullahpur ML High School, Munshiganj · Dhaka Board
Business Studies · GPA 4.75 (out of 5.00)
কর্ম অভিজ্ঞতা
Jakwan Travels
Founder & CEO
Betka Chowrasta, Tongibari, Munshiganj
Technical Training Center (TTC), Munshiganj
PDO Guest Trainer
Pre-Departure Orientation for overseas workers
Jakwan Technology
Founder & CEO
Betka Chowrasta, Tongibari, Munshiganj
Provirtual IT Security Systems
Founder & CEO
CC camera & security systems sales · Betka Chowrasta, Tongibari, Munshiganj
Pubali Cold Storage & Ice Plant Ltd.
Accounts Key Manager
Munshiganj
Microway Systems
Asst. Manager – Sales
Motijheel, Dhaka
প্রশিক্ষণ ও সহশিক্ষা কার্যক্রম
Professional GDS & Visa Processing Course
Wings Fly Aviation Academy, Dhaka
Web Designing
Skill & Technology Institute, Dhaka
Office Management Course
Wins IT, Paltan, Dhaka
Marketing for Non-Marketing Professionals
Prothom Alo Jobs
Ansar VDP Training
Directed by Khandakar Ruhul Amin
যেসব দেশ ভ্রমণ করেছি
যোগাযোগ
হেড অফিস
শাহজালাল শিকদার সুপার মার্কেট, বেতকা চৌরাস্তা, টংগিবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ
ব্রাঞ্চ অফিস
মন্ডল মার্কেট (দোকান নং ১৬), যমুনা ব্যাংক লেন, সিপাহীপাড়া, রামপাল, মুন্সীগঞ্জ
ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ
01929 222 954 (কল)
01622 339 261 (হোয়াটসঅ্যাপ)
নিজ গ্রাম
সলিমাবাদ, আব্দুল্লাপুর, টংগিবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ