এয়ারপোর্ট জার্নি: বাসা থেকে গন্তব্য
ব্যাগ গোছানো থেকে শুরু করে গন্তব্যের এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়া পর্যন্ত — ২৯টি ধাপ, ৭টি পর্বে। নিচে নামতে থাকুন, প্রতিটি ধাপ চোখের সামনে অ্যানিমেশনে দেখবেন।
যাত্রা শুরু করুনপ্রস্তুতি
বাসা থেকে বের হওয়ার আগে — ব্যাগ গোছানো আর টিকেট মিলিয়ে নেওয়া।
বাসায় ব্যাগ গোছানো
কাগজপত্র হাতের ব্যাগে, কাপড়চোপড় বড় লাগেজে — ওজন মেপে নিন।
পাসপোর্ট, ভিসা, টিকেট ও প্রয়োজনীয় কাগজ একটি ফাইলে গুছিয়ে হাতের ব্যাগে রাখুন — বড় লাগেজে নয়। টিকেটে যত কেজি লাগেজ প্রাপ্য, বাসাতেই ওজন মেপে সেই সীমার মধ্যে রাখুন।
খেয়াল রাখুন — ৪টি টিপস
- পাওয়ার ব্যাংক ও বাড়তি ব্যাটারি শুধু হাতের ব্যাগে। বেশিরভাগ এয়ারলাইনে সর্বোচ্চ ২টি, প্রতিটি ১০০ ওয়াট-ঘণ্টার কম।
- হাতের ব্যাগে তরল জিনিস (পানি, আতর, তেল) ১০০ মিলির বেশি রাখবেন না।
- লাইটার, খেলনা পিস্তল, ড্রোন, ধারালো জিনিস নেবেন না। অন্যের দেওয়া অজানা প্যাকেটও নয়।
- লাগেজ র্যাপিং বাধ্যতামূলক নয়। তবে লাগেজে নাম-ফোন নম্বর লাগান, চেনার জন্য রঙিন ফিতা বাঁধুন।
টিকেট মিলিয়ে ফ্লাইট ও টার্মিনাল নিশ্চিত করুন
টিকেটে ফ্লাইট নম্বর, তারিখ, সময় মিলিয়ে টার্মিনাল নিশ্চিত করুন।
টিকেটে নামের বানান, ফ্লাইট নম্বর, তারিখ ও সময় মিলিয়ে নিন। কোন টার্মিনাল দিয়ে ঢুকবেন, এজেন্সি বা এয়ারলাইনের কাছে নিশ্চিত হোন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
খেয়াল রাখুন — ৩টি টিপস
- শাহজালাল বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের চেক-ইন সাধারণত ছাড়ার ১ ঘণ্টা আগে বন্ধ হয়ে যায় — কিছু এয়ারলাইনে আরও আগে।
- হুইলচেয়ার লাগলে যাত্রার তারিখের আগেই এয়ারলাইনকে জানিয়ে রাখুন।
- ফ্লাইটের সময় বদলের মেসেজ বা ইমেইল এসেছে কিনা রওনা দেওয়ার আগে দেখে নিন।
বিমানবন্দরে প্রবেশ
গাড়ি থেকে নেমে চেক-ইন কাউন্টার খুঁজে পাওয়া পর্যন্ত।
টার্মিনালে পৌঁছে ট্রলি নিন
বিদায় বাইরে থেকেই — ট্রলি নিয়ে Departures-এ ঢুকুন।
বহির্গমন (Departures) এলাকায় গাড়ি থেকে নামুন। হেভি লাগেজ গেটের সামনে সারি করে ট্রলি রাখা থাকে — লাগেজ ট্রলিতে তুলে প্রবেশপথের দিকে যান।
খেয়াল রাখুন — ৩টি টিপস
- যাত্রী ছাড়া অন্য কেউ ভেতরে ঢুকতে পারেন না — স্বজনদের কাছ থেকে বাইরেই বিদায় নিন।
- অপরিচিত কাউকে লাগেজ টানতে বা পাহারা দিতে দেবেন না।
- প্রথমবার এলে বহির্গমন এলাকার হেল্প ডেস্কে পাসপোর্ট ও টিকেট দেখিয়ে পুরো প্রক্রিয়া জেনে নিতে পারেন।
প্রবেশপথে প্রথম কাগজ চেক
দরজায় পাসপোর্ট ও টিকেট দেখান — এটা প্রাথমিক চেক।
প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মী দেখবেন আপনার পাসপোর্ট ও টিকেট (প্রয়োজনে ভিসা) আছে কিনা। দেখানো হলেই ভেতরে ঢুকতে দেবেন।
খেয়াল রাখুন — ১টি টিপস
- পাসপোর্ট ও টিকেট হাতের কাছে রাখুন, যেন বারবার ব্যাগ খুলতে না হয়।
লাগেজ স্ক্যানিং মেশিনে
লাগেজ স্ক্যানিং মেশিনে দিন — ভেতরে নিষিদ্ধ কিছু আছে কিনা দেখা হয়।
ঢোকার পরপরই আপনার লাগেজ স্ক্যানিং মেশিনে দিতে হবে। ভেতরে অবৈধ বা নিষিদ্ধ কিছু আছে কিনা দেখা হয়। সন্দেহ হলে ব্যাগ খুলে দেখাতে বলতে পারে — শান্তভাবে সহযোগিতা করুন।
খেয়াল রাখুন — ২টি টিপস
- বড় লাগেজে পাওয়ার ব্যাংক বা লাইটার থাকলে এখানেই আটকে যাবে — আগেই বের করে রাখুন।
- স্ক্যান শেষে সব ব্যাগ গুনে ট্রলিতে তুলুন।
স্ক্রিনে দেখুন আপনার চেক-ইন রো খুলেছে কিনা
স্ক্রিনে নিজের ফ্লাইট নম্বর খুঁজুন — পাশে চেক-ইন রো লেখা থাকে।
ভেতরে বড় স্ক্রিনে (ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে) ফ্লাইট নম্বর, গন্তব্য, চেক-ইন রো আর অবস্থা দেখা যায়। টিকেটের ফ্লাইট নম্বর মিলিয়ে নিজের ফ্লাইট খুঁজুন, তারপর সেই রো-তে যান।
খেয়াল রাখুন — ২টি টিপস
- প্রতিটি রো-এর পাশেও স্ক্রিন থাকে। একই গন্তব্যে একাধিক ফ্লাইট থাকতে পারে — তাই গন্তব্য নয়, ফ্লাইট নম্বর মেলান।
- কাউন্টার এখনো না খুললে আশেপাশে অপেক্ষা করুন; খুঁজে না পেলে হেল্প ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন।
চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন
লাগেজ জমা, বোর্ডিং পাস, আর পাসপোর্টে ডিপার্চার সিল।
চেক-ইন কাউন্টার: কাগজ দেখানো ও লাগেজ ওজন
কাউন্টারে কাগজ দিন, লাগেজ ওজন হবে — সীমার মধ্যে থাকলে জমা।
কাউন্টারে পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকেট দিন। কর্মী আপনার কাগজ যাচাই করবেন, এরপর লাগেজ ওজন মাপার বেল্টে তুলতে বলবেন। টিকেটে যতটুকু প্রাপ্য, তার মধ্যে থাকলে জমা নিয়ে নেবেন।
খেয়াল রাখুন — ৩টি টিপস
- ওজন বেশি হলে জিনিস কমাতে হবে, নয়তো অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে।
- প্রবাসী কর্মীরা চাইলে দেখানোর জন্য বিএমইটি কার্ড ও ভিসার কপি হাতে রাখুন।
- জানালার পাশে বা আইলে সিট চাইলে এখনই অনুরোধ করুন।
বোর্ডিং পাস ও লাগেজ ট্যাগ বুঝে নিন
বোর্ডিং পাস আর লাগেজ ট্যাগের স্টিকার বুঝে নিন।
কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস পাবেন, আর লাগেজে ট্যাগ লাগিয়ে বেল্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ট্যাগের একটা অংশ (স্টিকার) আপনাকে দেবে — ব্যাগ হারালে এটাই প্রমাণ।
খেয়াল রাখুন — ২টি টিপস
- বোর্ডিং পাসে মিলিয়ে নিন: নাম, ফ্লাইট নম্বর, সিট নম্বর, গেট ও বোর্ডিং টাইম।
- ট্রানজিট থাকলে জিজ্ঞেস করুন: লাগেজ সরাসরি শেষ গন্তব্যে যাবে কিনা (ট্যাগে শেষ গন্তব্যের কোড দেখুন), আর পরের ফ্লাইটের বোর্ডিং পাসও এখান থেকে দেবে কিনা।
ইমিগ্রেশনের আগে: ডলার ও সহায়তা ডেস্ক
ডলার এনডোর্সমেন্ট বা কোনো সহায়তা লাগলে ইমিগ্রেশনে ঢোকার আগেই সেরে নিন।
ইমিগ্রেশনের ভেতরে কোনো ব্যাংক নেই। তাই ডলার কেনা বা পাসপোর্টে এনডোর্সমেন্ট বাকি থাকলে বহির্গমন কনকোর্সের ব্যাংক/মানি এক্সচেঞ্জ বুথ থেকে ইমিগ্রেশনে ঢোকার আগেই করে নিন।
খেয়াল রাখুন — ২টি টিপস
- বাংলাদেশি টাকা বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বদলে বৈদেশিক মুদ্রায় বদলে পাসপোর্টে এনডোর্স করে নিন।
- প্রবাসী কর্মীদের যেকোনো সমস্যায় বহির্গমন এলাকায় হেভি লাগেজ গেট-৫ এর পাশে এবং ইমিগ্রেশন এলাকায় প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক আছে।
ইমিগ্রেশন এলাকায় প্রবেশ — প্রাথমিক চেক
ইমিগ্রেশন এলাকার গেটে বোর্ডিং পাস ও পাসপোর্ট দেখান।
চেক-ইন রো-এর পাশেই বহির্গমন ইমিগ্রেশন। প্রবেশমুখে দায়িত্বরত কর্মী আপনার বোর্ডিং পাস, পাসপোর্ট ও ভিসা একবার দেখে ভেতরে যেতে দেবেন।
খেয়াল রাখুন — ২টি টিপস
- বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ইমিগ্রেশন কার্ড পূরণ করতে হয় না।
- এখান থেকে বোর্ডিং পাস আর পাসপোর্ট সবসময় হাতে রাখুন।
ইমিগ্রেশন বুথ — প্রশ্ন ও ডিপার্চার সিল
লাইনে দাঁড়ান, কাগজ দিন, প্রশ্নের সত্যি উত্তর দিন — সিল পড়লেই পার।
ভেতরে অনেকগুলো বুথ, প্রতিটির সামনে লাইন। নিজের পালা এলে পাসপোর্ট, ভিসা, বোর্ডিং পাস ও প্রয়োজনীয় কাগজ দিন। অফিসার ছবি তুলবেন, কিছু প্রশ্ন করতে পারেন। কাগজ আর উত্তর ঠিক থাকলে পাসপোর্টে ডিপার্চার সিল দিয়ে ছেড়ে দেবেন।
খেয়াল রাখুন — ৩টি টিপস
- ঠান্ডা মাথায়, সত্যি ও ছোট করে উত্তর দিন — কাগজে যা আছে, মুখেও তাই।
- ক্যামেরার দিকে সোজা তাকান; টুপি ও সানগ্লাস খুলে রাখুন।
- পাসপোর্ট ফেরত নিয়ে সিল পড়েছে কিনা দেখে নিন।
বোর্ডিং
অপেক্ষা, শেষ নিরাপত্তা তল্লাশি, আর বিমানে ওঠা।
অপেক্ষার এলাকা — ওয়াশরুম, নামাজ, খাবার
গেটের আশেপাশে অপেক্ষা করুন, স্ক্রিনে গেট নম্বর বারবার মিলিয়ে নিন।
ইমিগ্রেশনের পর ডিউটি ফ্রি, লাউঞ্জ, নামাজের জায়গা, ওয়াশরুম ও খাবারের দোকান পাবেন। প্রয়োজনগুলো এখনই সেরে নিন, আর বোর্ডিং টাইমের আগেই গেটের কাছে পৌঁছে যান।
খেয়াল রাখুন — ৪টি টিপস
- গেট নম্বর বোর্ডিং পাসে না থাকলে বা বদলে গেলে বোর্ডিং ব্রিজের পাশের স্ক্রিনে ফ্লাইট নম্বর দিয়ে দেখে নিন।
- ব্যাগ কোথাও রেখে ওয়াশরুমে যাবেন না — সবসময় সাথে রাখুন।
- শিশু সাথে থাকলে ইমিগ্রেশনের পরে বেবি কেয়ার কেন্দ্র আছে।
- ঘুমিয়ে পড়ার ভয় থাকলে ফোনে অ্যালার্ম দিন; ঘোষণা খেয়াল রাখুন।
বোর্ডিং গেটে নিরাপত্তা তল্লাশি
হাতের ব্যাগ, বেল্ট, জুতা, মোবাইল ট্রেতে দিন — আর্চ দিয়ে হেঁটে পার হন।
গেটে ঢোকার আগে হাতের ব্যাগসহ সব কিছু আবার স্ক্যান হয়। বেল্ট, ঘড়ি, মানিব্যাগ, মোবাইল, চাবি, কয়েন ট্রেতে রাখুন। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী জুতাও খুলতে হয়। এরপর মেটাল ডিটেক্টর আর্চের ভেতর দিয়ে হেঁটে পার হন।
খেয়াল রাখুন — ৩টি টিপস
- ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট ব্যাগ থেকে বের করে আলাদা ট্রেতে দিতে বলতে পারে।
- হাতে সর্বোচ্চ ১০০ মিলির একটি পানির বোতল নেওয়া যায়; তরল খাবার নেওয়া যায় না।
- তল্লাশির পর ট্রে থেকে নিজের সব জিনিস — বিশেষ করে পাসপোর্ট ও মোবাইল — গুনে তুলে নিন।
গেটের অপেক্ষার কক্ষ ও বোর্ডিং ঘোষণা
গেটের অপেক্ষার কক্ষে বসুন — বোর্ডিং ডাকলে লাইনে দাঁড়ান।
তল্লাশির পর গেটের পাশের অপেক্ষার কক্ষে বসানো হয়। বোর্ডিং শুরু হলে ঘোষণা দেওয়া হবে — অনেক সময় সিটের সারি বা গ্রুপ অনুযায়ী ডাকা হয়। নিজের পালা এলে লাইনে দাঁড়ান।
খেয়াল রাখুন — ২টি টিপস
- "ফাইনাল কল" মানে শেষ ডাক — তখনও না গেলে ফ্লাইট মিস হতে পারে। ফাইনাল কলের অপেক্ষায় বসে থাকবেন না।
- ফ্লাইট মিস হলে বা দেরি হলে এয়ারলাইনের কর্মী বা অফিসে যোগাযোগ করুন।
বিমানে ওঠা
বোর্ডিং পাস দেখিয়ে ব্রিজ বা বাসে করে বিমানে উঠুন।
গেটে বোর্ডিং পাস ও পাসপোর্ট দেখান। এরপর বোর্ডিং ব্রিজ দিয়ে সরাসরি, অথবা বাসে করে বিমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। দরজায় কেবিন ক্রু বোর্ডিং পাস দেখে সিটের দিক দেখিয়ে দেবেন।
খেয়াল রাখুন — ১টি টিপস
- বোর্ডিং পাসের যে অংশ ফেরত দেয়, সেটা যাত্রা শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেখে দিন।
বিমানের ভেতরে
সিট, সিটবেল্ট, খাবার, ওয়াশরুম — আকাশে যা যা জানা দরকার।
নিজের সিট খুঁজে ব্যাগ রাখুন
সিট নম্বর মিলিয়ে বসুন — বড় ব্যাগ ওপরের বক্সে।
বোর্ডিং পাসে সিট নম্বর থাকে, যেমন 32A — ৩২ হলো সারি, A হলো সিট। সারির নম্বর ও অক্ষর মাথার ওপরের লাগেজ বক্সের পাশে লেখা থাকে। না পেলে ক্রুকে বোর্ডিং পাস দেখান।
খেয়াল রাখুন — ৩টি টিপস
- বড় হাতব্যাগ মাথার ওপরের বক্সে, ছোট ব্যাগ সামনের সিটের নিচে রাখুন।
- পাওয়ার ব্যাংক ওপরের বক্সে নয় — নিজের কাছে বা সামনের সিটের নিচে।
- অন্যের সিটে বসবেন না; সিট বদলাতে চাইলে ক্রুর মাধ্যমে বলুন।
সিটবেল্ট বাঁধুন — উড্ডয়ন
সিটবেল্ট বাঁধুন, ফোন ফ্লাইট মোডে — এবার উড়াল।
বসেই সিটবেল্ট বাঁধুন: ধাতব অংশ বাকলে ঢুকিয়ে টেনে দিন, খুলতে ওপরের ঢাকনা তুলুন। ক্রু নিরাপত্তা নির্দেশনা দেখাবেন — মন দিয়ে দেখুন।
খেয়াল রাখুন — ৪টি টিপস
- মোবাইল "ফ্লাইট মোড"-এ দিন।
- উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় সিট সোজা রাখুন, সামনের টেবিল বন্ধ রাখুন, জানালার শাটার খোলা রাখুন।
- কান বন্ধ লাগলে ঢোক গিলুন, পানি পান করুন বা চুইংগাম চিবান।
- জরুরি দরজার পাশের সিটে বসলে জরুরি অবস্থায় সাহায্যের দায়িত্ব থাকে — না পারলে ক্রুকে জানান।
কখন দাঁড়াবেন, কখন বসে থাকবেন
সিটবেল্টের আলো জ্বলা মানে বসে থাকুন; নিভলে ওঠা যায়।
মাথার ওপরে সিটবেল্টের একটি আলো-চিহ্ন আছে। এটা জ্বলে থাকলে বসে থাকুন, বেল্ট বাঁধা রাখুন। নিভে গেলে উঠে হাঁটা বা ওয়াশরুমে যাওয়া যায়।
খেয়াল রাখুন — ৩টি টিপস
- উড্ডয়ন, অবতরণ ও ঝাঁকুনির (টার্বুলেন্স) সময় দাঁড়াবেন না।
- বসে থাকার সময়ও বেল্ট আলগা করে বেঁধে রাখা নিরাপদ — হঠাৎ ঝাঁকুনি হতে পারে।
- লম্বা ফ্লাইটে মাঝে মাঝে পা নাড়ান; সম্ভব হলে একটু হাঁটুন।
খাবার ও পানি
খাবারের সময় সামনের টেবিল নামান — পানি লাগলে ক্রুকে বলুন।
খাবারের সময় ক্রু ট্রলি নিয়ে আসেন, অনেক সময় দুটি পছন্দ জিজ্ঞেস করেন — যেমন চিকেন নাকি ফিশ। সামনের সিটের পেছনের টেবিলটা নামিয়ে নিন। খাওয়া শেষে ট্রে ক্রু নিয়ে যাবেন।
খেয়াল রাখুন — ৪টি টিপস
- বেশিরভাগ ফুল-সার্ভিস এয়ারলাইনে খাবার টিকেটের সাথেই থাকে; কিছু বাজেট এয়ারলাইনে কিনে খেতে হয় — টিকেট করার সময় জেনে নিন।
- হালাল নিশ্চিত হতে চাইলে, বা ডায়াবেটিক, নিরামিষ, শিশু খাবার লাগলে যাত্রার অন্তত ২৪–৪৮ ঘণ্টা আগে এজেন্সির মাধ্যমে "স্পেশাল মিল" অনুরোধ করুন (যেমন মুসলিম মিল — MOML)।
- পানি লাগলে যেকোনো সময় ক্রুকে বলুন বা কল বাটন চাপুন।
- কোনো পানীয় না চাইলে ভদ্রভাবে "No, thank you" বলুন।
বিমানের ওয়াশরুম ব্যবহার
দরজায় সবুজ Vacant মানে খালি, লাল Occupied মানে ভেতরে কেউ আছে।
বিমানের সামনে, মাঝে বা পেছনে ওয়াশরুম থাকে। দরজায় সবুজ "Vacant" মানে খালি, লাল "Occupied" মানে ভেতরে কেউ আছে। ভেতরে ঢুকে দরজার লক টানলে বাতি জ্বলে ও বাইরে "Occupied" দেখায়।
খেয়াল রাখুন — ৪টি টিপস
- কাজ শেষে "Flush" বাটন চাপুন — জোরে শব্দ হয়, ভয় পাবেন না।
- পানি সীমিত; টিস্যু ও বেসিনের পানি ব্যবহার করুন, মেঝে ভেজাবেন না।
- ওযু করতে চাইলে অল্প পানিতে সারুন, পরে বেসিন মুছে দিন।
- সিটবেল্টের আলো জ্বলা অবস্থায় বা খাবারের ট্রলি চলার সময় যাবেন না। ভেতরে সমস্যা হলে কল বাটন চাপুন।
যাত্রাপথে নামাজ, বিশ্রাম ও ক্রুর সহায়তা
সাহায্য লাগলে কল বাটন চাপুন — স্ক্রিনে ফ্লাইট ম্যাপে অবস্থান দেখুন।
সিটের হাতলে বা মাথার ওপরে মানুষের ছবিওয়ালা কল বাটন আছে — চাপলে ক্রু আসবেন। কম্বল, বালিশ, পানি বা যেকোনো সাহায্য চাইতে পারেন।
খেয়াল রাখুন — ৪টি টিপস
- নামাজ সিটে বসেই আদায় করতে পারেন; সামনের স্ক্রিনের ফ্লাইট ম্যাপে দিক ও অবস্থান দেখা যায়।
- অসুস্থ বা অস্বস্তি লাগলে সাথে সাথে ক্রুকে জানান।
- গন্তব্য দেশের অ্যারাইভাল কার্ড বিমানে দিলে পূরণ করে রাখুন; না বুঝলে ক্রুর সাহায্য নিন।
- অনেক এয়ারলাইনে এখন ফ্লাইটের মধ্যে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার নিষেধ — সিটের ইউএসবি পোর্ট থাকলে সেটা ব্যবহার করুন।
অবতরণ ও বিমান থেকে নামা
বিমান পুরোপুরি থামা ও আলো নেভা পর্যন্ত বসে থাকুন।
নামার আগে ঘোষণা দেওয়া হবে — সিট সোজা করুন, বেল্ট বাঁধুন, টেবিল বন্ধ করুন। অবতরণের পর বিমান পুরোপুরি থেমে সিটবেল্টের আলো নেভা পর্যন্ত বসে থাকুন। দরজা খুললে সারি অনুযায়ী ধীরে নামুন।
খেয়াল রাখুন — ২টি টিপস
- নামার আগে সামনের সিটের পকেট আর সিটের নিচে দেখুন — পাসপোর্ট, মোবাইল, চশমা যেন পড়ে না থাকে।
- ওপরের বক্স সাবধানে খুলুন — ভেতরের জিনিস সরে গিয়ে পড়তে পারে।
ট্রানজিট (যদি থাকে)
মাঝপথে অন্য দেশে বিমান বদল করতে হলে।
সরাসরি ফ্লাইট? এই পর্ব বাদ দিনট্রানজিট থাকলে: "Transfer" চিহ্ন অনুসরণ করুন
ট্রানজিট থাকলে Arrivals নয় — Transfer চিহ্ন ধরে এগোন।
মাঝের কোনো দেশে বিমান বদল করতে হলে নেমে "Arrivals" বা "Exit"-এর দিকে যাবেন না। "Transfer / Transit / Connecting Flights" লেখা চিহ্ন অনুসরণ করুন। সরাসরি ফ্লাইট হলে এই পর্ব বাদ দিয়ে ২৬ নম্বর ধাপে যান।
খেয়াল রাখুন — ২টি টিপস
- অনেক বিমানবন্দরে নামার মুখেই এয়ারলাইনের কর্মীরা ট্রানজিট যাত্রীদের পথ দেখান — বোর্ডিং পাস দেখিয়ে জিজ্ঞেস করুন।
- একই ফ্লাইটের পরিচিত কেউ থাকলে একসাথে চলুন।
ট্রানজিট সিকিউরিটি ও পরের ফ্লাইটের গেট
আবার সিকিউরিটি চেক — তারপর স্ক্রিনে পরের ফ্লাইটের গেট দেখুন।
ট্রানজিট পথে আবার সিকিউরিটি চেক হয়। এরপর স্ক্রিনে পরের ফ্লাইট নম্বর মিলিয়ে গেট নম্বর দেখে নিন এবং সময়মতো সেই গেটে পৌঁছান।
খেয়াল রাখুন — ৪টি টিপস
- পরের ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস না থাকলে "Transfer Desk" থেকে নিন।
- বড় বিমানবন্দরে এক গেট থেকে আরেক গেটে যেতে ট্রেন বা লম্বা হাঁটা লাগতে পারে — সময় হাতে রাখুন।
- ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলে ট্রান্সফার ডেস্কে যান; এয়ারলাইন পরের ফ্লাইট বা থাকার ব্যবস্থা জানাবে।
- ডিউটি ফ্রি থেকে কেনা তরল জিনিস সিল করা ব্যাগে রসিদসহ রাখুন।
এক টিকেট না আলাদা টিকেট — লাগেজ ও ভিসা
এক টিকেটে সাধারণত ব্যাগ সরাসরি যায়; আলাদা টিকেটে নিয়ম বদলায়।
একই টিকেটে দুই ফ্লাইট হলে সাধারণত লাগেজ সরাসরি শেষ গন্তব্যে চলে যায়, আর বিমানবন্দরের ভেতরে থাকলে ট্রানজিট দেশের ভিসা লাগে না। তবে সব ক্ষেত্রে নিয়ম এক নয়।
খেয়াল রাখুন — ৩টি টিপস
- দুই ফ্লাইট আলাদা টিকেটে হলে অনেক সময় লাগেজ তুলে আবার চেক-ইন করতে হয় — তখন ওই দেশের প্রবেশ ভিসা লাগতে পারে।
- কিছু দেশে বিমানবন্দরের ভেতরে থাকলেও ট্রানজিট ভিসা লাগে — টিকেট করার সময় এজেন্সির কাছে নিশ্চিত হোন।
- ভিসা ছাড়া ট্রানজিট দেশের বিমানবন্দর থেকে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।
গন্তব্যে পৌঁছানো
ইমিগ্রেশন, লাগেজ, কাস্টমস — তারপর বাইরে।
গন্তব্য দেশের ইমিগ্রেশন
Arrivals চিহ্ন ধরে ইমিগ্রেশনে যান — ঢাকার মতোই সত্যি উত্তর দিন।
নেমে "Arrivals / Immigration" চিহ্ন ধরে এগোন, বিদেশি যাত্রীদের লাইনে দাঁড়ান। পাসপোর্ট, ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজ দিন। আঙুলের ছাপ ও ছবি নেওয়া হতে পারে, কিছু প্রশ্নও করা হতে পারে। সব ঠিক থাকলে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে ছেড়ে দেবে।
খেয়াল রাখুন — ৩টি টিপস
- ঢাকায় যে উত্তর দিয়েছেন, এখানেও ঠিক সেটাই বলুন।
- অনেক দেশে অনলাইনে অ্যারাইভাল কার্ড জমা দিতে হয় — যাত্রার আগেই করে রাখুন।
- ওয়ার্ক পারমিট কর্মীরা নিয়োগপত্র বা অনুমোদনপত্র হাতের কাছে রাখুন।
লাগেজ বেল্ট থেকে ব্যাগ সংগ্রহ
স্ক্রিনে ফ্লাইট নম্বরের পাশে বেল্ট নম্বর দেখুন — ট্যাগ মিলিয়ে ব্যাগ তুলুন।
ইমিগ্রেশনের পর স্ক্রিনে নিজের ফ্লাইট নম্বর খুঁজুন — পাশে বেল্ট নম্বর লেখা থাকবে। সেই বেল্টের পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করুন, ব্যাগ ঘুরে এলে তুলে নিন।
খেয়াল রাখুন — ২টি টিপস
- তোলার আগে ব্যাগের ট্যাগ মিলিয়ে নিন — একই রকম ব্যাগ অনেকের থাকে।
- ব্যাগ না এলে বা ভাঙা পেলে বের হওয়ার আগেই "Baggage Services / Lost & Found" ডেস্কে লাগেজ ট্যাগ দেখিয়ে অভিযোগ দিন।
কাস্টমস পার হওয়া
ঘোষণার কিছু না থাকলে সবুজ চ্যানেল, থাকলে লাল চ্যানেল।
বের হওয়ার আগে কাস্টমস এলাকা। ঘোষণা দেওয়ার মতো কিছু না থাকলে সবুজ চ্যানেল (Nothing to Declare), থাকলে লাল চ্যানেল (Goods to Declare) দিয়ে যান। ব্যাগ আবার স্ক্যান বা খুলে দেখতে পারে।
খেয়াল রাখুন — ২টি টিপস
- ওষুধ নিলে প্রেসক্রিপশন সাথে রাখুন — কিছু ওষুধ কোনো কোনো দেশে নিষিদ্ধ।
- খাবার, মাংস, ফল-বীজ নেওয়ার নিয়ম দেশভেদে কড়া — যাত্রার আগে জেনে নিন।
বের হওয়া — যাত্রা সম্পূর্ণ
Exit দিয়ে বের হন — পরিচিত প্রতিনিধির সাথেই যান।
"Exit" চিহ্ন ধরে বাইরে আসুন। কোম্পানির প্রতিনিধি, হোটেলের গাড়ি বা আত্মীয় যিনি নিতে আসবেন, তাঁর সাথে আগেই যোগাযোগ নিশ্চিত রাখুন।
খেয়াল রাখুন — ৩টি টিপস
- প্রবাসী কর্মীরা শুধু কোম্পানির পরিচিত প্রতিনিধির সাথেই যান; অপরিচিত কেউ ডাকলে যাবেন না।
- পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখুন; কাউকে "জমা রাখতে" দেবেন না।
- পৌঁছে পরিবার ও এজেন্সিকে জানিয়ে দিন।
এক নজরে পুরো যাত্রার ক্রম
পুরো পথটা আরেকবার মনে করে নিন। যেকোনো ধাপে ট্যাপ করলে সেখানে চলে যাবেন।
বিমানবন্দরে প্রবেশ
৩টার্মিনালে পৌঁছে ট্রলি নিন৪প্রবেশপথে প্রথম কাগজ চেক৫লাগেজ স্ক্যানিং মেশিনে৬স্ক্রিনে দেখুন আপনার চেক-ইন রো খুলেছে কিনাচেক-ইন ও ইমিগ্রেশন
৭চেক-ইন কাউন্টার: কাগজ দেখানো ও লাগেজ ওজন৮বোর্ডিং পাস ও লাগেজ ট্যাগ বুঝে নিন৯ইমিগ্রেশনের আগে: ডলার ও সহায়তা ডেস্ক১০ইমিগ্রেশন এলাকায় প্রবেশ — প্রাথমিক চেক১১ইমিগ্রেশন বুথ — প্রশ্ন ও ডিপার্চার সিলবোর্ডিং
১২অপেক্ষার এলাকা — ওয়াশরুম, নামাজ, খাবার১৩বোর্ডিং গেটে নিরাপত্তা তল্লাশি১৪গেটের অপেক্ষার কক্ষ ও বোর্ডিং ঘোষণা১৫বিমানে ওঠাবিমানের ভেতরে
১৬নিজের সিট খুঁজে ব্যাগ রাখুন১৭সিটবেল্ট বাঁধুন — উড্ডয়ন১৮কখন দাঁড়াবেন, কখন বসে থাকবেন১৯খাবার ও পানি২০বিমানের ওয়াশরুম ব্যবহার২১যাত্রাপথে নামাজ, বিশ্রাম ও ক্রুর সহায়তা২২অবতরণ ও বিমান থেকে নামাদেশে ফেরার সময় — শাহজালাল বিমানবন্দরে
প্রবাসী ভাই-বোনেরা ঢাকায় নামার পর এই ক্রমে বের হবেন। তথ্য শাহজালাল বিমানবন্দরের অফিসিয়াল প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী।
- ১ইমিগ্রেশন: বিমান থেকে নেমে চিহ্ন ধরে আগমনী ইমিগ্রেশনে যান। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ইমিগ্রেশন কার্ড পূরণ করতে হয় না।
- ২বেল্ট খুঁজুন: বেল্ট এলাকার স্ক্রিন দেখে বা হেল্প ডেস্কে জিজ্ঞেস করে নিজের ফ্লাইটের বেল্টে যান। প্রতিটি বেল্টের পাশে ট্রলি রাখা থাকে।
- ৩লাগেজ না পেলে: বের হওয়ার আগেই এয়ারলাইন এবং আগমনী বেল্ট-০১ এর পাশের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে লাগেজ ট্যাগ দেখিয়ে অভিযোগ দিন। ব্যাগ কাটা বা ভাঙা থাকলে এয়ারলাইনের কাছে লিখিত অভিযোগ করুন।
- ৪কাস্টমস: ঘোষণার কিছু না থাকলে গ্রিন চ্যানেল, থাকলে রেড চ্যানেল। শুল্ক জমার কাউন্টার রেড চ্যানেলে।
- ৫বের হওয়া: কাস্টমসের পর নির্দেশিত গেট দিয়ে বাইরে আসুন। সিম ও রিচার্জ বুথ কাস্টমসের পরের এলাকায় আছে।
- ৬সহায়তা: আগমনী এলাকায় বিনামূল্যের টেলিফোন বুথ ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক আছে। অসুস্থ বোধ করলে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগে যান। হটলাইন: 13600।
প্রথমবার যাচ্ছেন? চিন্তা নেই।
টিকেট, টার্মিনাল, লাগেজের ওজন, ট্রানজিট বা কাগজপত্র — যাত্রার আগে যেকোনো প্রশ্নে জাকওয়ান ট্রাভেলস টিমকে জিজ্ঞেস করুন। আমরা ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দেব।
ঢাকার ধাপগুলো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অফিসিয়াল নির্দেশনার সাথে মিলিয়ে সাজানো। বিদেশের বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনভেদে প্রক্রিয়া কিছুটা আলাদা হতে পারে। লাগেজ, পাওয়ার ব্যাংক, তরল ও ট্রানজিটের নিয়ম যাত্রার আগে নিজের এয়ারলাইন থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন। তথ্য সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুযায়ী।